কুমিল্লায় ১৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬৩ জন

কুমিল্লাআগামী ২৮ ডিসেম্বর কুমিল্লার চার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ৬৩ জন। একই দিন জেলার তিনটি উপজেলায় চারটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনি আমেজ। এছাড়া দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় গ্রামের হাটবাজারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীরা ছুটছেন গ্রামের খেটে-খাওয়া ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তাদের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস- প্রতিশ্রুতিতে বুক বাঁধতে শুরু করেছেন ভোটাররা।

এদিকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মোট ১৫ প্লাটুন বিজিবি, ১৫ প্লাটুন র‌্যাবসহ আনসার ভিডিপি ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন ও চারটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনে রয়েছে একাধিক চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নারী মেম্বার প্রার্থী। ১৫টি ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক ছাড়াও রয়েছে একাধিক প্রতীকের প্রার্থী।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকই দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীকে মো. আবদুল আউয়াল, ধানের শীষ প্রতীকে আনোয়ার হোসেন, হাত পাখা প্রতীকে খোরশেদ আলম, মোটরসাইকেল প্রতীকে জসিম উদ্দিন ও নাঙল প্রতীকে আবদুর রহিম। মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে মো. শাহিদুল ইসলাম শাহীন, ধানের শীষ শাহ আলম, আনারস প্রতীকে মো. শাহাজাহান পাটোয়ারী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে আবদুর রশিদকে নৌকা, মো. আবুল বাসারকে ধানের শীষ ও খোরশেদ আলমকে নাঙল প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলার আটটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে মো. আবদুল ওহাব, ধানের শীষ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, আনারস বোরহান উদ্দিন ভূইয়া, হাতপাখায় মো. নাসির উদ্দিন, চশমা প্রতীকে মো. সাইফুল্লাহ চেয়ারম্যান প্রার্থী। আদ্রা উত্তর ইউনিয়নে নৌকায় মো. তাজুল ইসলাম মজুমদার, ধানের শীষে মাহবুবা আক্তার, আনারস প্রতীকে সালেহ আহম্মেদ। বটতলী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে এন কে এম সিরাজুল আলম, ধানের শীষে গোলাম মাওলা, হাতপাখা মাবুল হক। দৌলখাঁড় ইউনিয়নে হাজী আবুল কালাম ভুঁইয়াকে নৌকা, মো. মোশারফ হোসেনকে ধানের শীষ, জাহাঙ্গীর আলমকে ঘোড়া, আবদুর রহমানকে হাতপাখা, মো. আলী হোসেনকে টেলিফোন, গোলাম মোস্তফাকে টেবিল ফ্যান, শাহাজাহান ভূঁইয়াকে মোটরসাইকেল, মো. সেলিমকে আনারস প্রতীক দেওয়া হয়েছে। জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক মো. আনোয়ার হোসেন মিয়াজী, ধানের শীষ শফিকুর রহমান চৌধুরী। জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক মো. মাসুদ রানা ভূঁইয়া, ধানের শীষ শাহজাহান মজুমদার। রায়কোট উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার, ধানের শীষ মো. ইদ্রিস মিয়া, আনারস মো. মহসীন। রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক মজিবুর রহমান (মজিব), ধানের শীষ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, আনারস মো. জাহাঙ্গীর, চশমা মাহফুজুল আলম খন্দকার। 

দাউদকান্দির তিনটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দাউদকান্দি বারপাড়া ইউনিয়নে মো. মনির হোসেন তালুকদারকে নৌকা, মো. আলাউদ্দিনকে ধানের শীষ, আখের খানকে চশমা, এ কে আজাদকে আনারস, মো. জালাল উদ্দিন চৌধুরীকে ঘোড়া, মো. শাহাজাহান মেম্বারকে নাঙল প্রতীক দেওয়া হয়েছে। দৌলতপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক মো. মাকসুদুল আলম জমাদার, ধানের শীষ শফিকুল ইসলাম, আনারস আল আমিন, ঘোড়া প্রতীকে মোহাম্মদ মহিনউদ্দিন, নাঙল আলাউদ্দিন চৌধুরী, রজনীগন্ধা প্রতীকে মো. সেলিম মিয়াজী, মোটরসাইকেল শাহজাহান বেপারী। ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক মো. মামুনুর রশিদ, ধানের শীষ মো. আনোয়ার হোসেন, চশমা মো. আবুল কাশেম খান, আনারস মো. মোতাহের হোসেন। সদর দক্ষিণ (লালমাই) উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক মো. আইউব আলী, ধানের শীষ দেলোয়ার হোসেন, চশমা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, আনারস মো. আব্দুল ওহাব, মোস্তফা কামাল চৌধুরী ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচন করবেন। 

এছাড়া জেলার তিনটি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে একইদিন। চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড, কেরনখাল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড, বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এবং মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ডিসেম্বর।

কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, ২৮ ডিসেম্বর জেলার ১৫টি ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন ও ৪টি ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের সামগ্রী সংশ্লিষ্ট উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মোট ১৫ প্লাটুন বিজিবি, ১৫ প্লাটুন র‌্যাবসহ আনসার ভিডিপি ও পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। উপ-নির্বাচনের ওয়ার্ডগুলোতেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।