রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সেজন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও আশ্বস্ত করেন বিনালি ইলদিরিম।
উখিয়ার বালুখালী-১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যারা তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ভরাখালী থংরা গ্রামের রোহিঙ্গা নারী মজুমা খাতুন (৫০)। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আমার কাছে জানতে চান মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কী ধরনের নির্যাতন করেছে। আমার দুই ছেলেকে ধরে নিয়ে বর্বর নির্যাতনের কথা এবং আমার মেয়েকে ধর্ষণের কথা সব কিছু তাকে বলেছি।’
মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা নারী হামিদা বেগমও (৪৫) কথা বলেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আমার কাছে জানতে চান মিয়ানমারে কী হয়েছে? তোমরা কেন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছো? উত্তরে আমি আমার ওপর চালানো সব বর্বর অত্যাচার ও নির্যাতনের কথা বলেছি। আমার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং পরে আমাকে সান্ত্বনা দেন।’
গোলবাহার বেগম (৩৫) নামের রোহিঙ্গা নারীও একই কথা বলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি জানান, তার স্বামীকে গাছে ঝুলিয়ে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে সেই বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যার দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠায় আমি আর কথা বলতে পারছিলাম না। তখন আমার কান্না ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। আমার কান্না দেখে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।’
বিনালি ইলদিরিম কথা বলেছেন নির্যাতনের শিকার আরও অনেক রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুর সঙ্গে। তাদের প্রত্যেকের মুখে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের কথা শুনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মাটিতে বসে পড়েন তুরস্কের এই নেতা। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে রোহিঙ্গাদের কথা শোনেন। এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাসহ ৩০ জন প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে তিনি সড়ক পথে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে প্রথমে উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্প-১-এ যান। সেখানে তিনি তুরস্ক সরকারের একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন। একই সঙ্গে উখিয়ার শফিউল্লাহকাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের পক্ষে রান্না করা খাবার ও নন ফুড আইটেম বিতরণ করেন।
পরিদর্শন শেষে বিনালি ইলদিরিম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেন। এসময় তিনি আরও বলেন, ‘বর্বর নির্যাতনের শিকার অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিকতা দেখিয়েছে তা সত্যিই বিরল। এ জন্যে প্রশংসার দাবি রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।’ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানান তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী।