অতিরিক্ত ভিড়, কিছুটা অব্যবস্থাপনা ও কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশ পথের ত্রুটির কারণেই ‘রীমা কমিউনিটি সেন্টারে’ পদদলনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তিনটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এ এস এম মোস্তাইন হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সিএমপি’র পক্ষ থেকে গঠন করা এই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে তদন্ত প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
মোস্তাইন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য এককভাবে কাউকে দায়ি করার সুযোগ নেই। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রীমা কনভেনশন সেন্টারের পশ্চিম পাশের ফটক খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভেতরে ঢুকছেন। ঢালু জায়গা হওয়ায় প্রথমে এক যুবক পড়ে যান। তারপর এক জনের ওপর পড়ে আরেকজন। এভাবে পদদলনের ঘটনা ঘটে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন। কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে-বাইরে, সিঁড়িতে ও বাইরের রাস্তায় সব মিলিয়ে ২২ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবকও ছিলেন পর্যাপ্ত। এক সঙ্গে অনেক লোক এসে ভিড় করায়, পেছন থেকে চাপের কারণে এবং সর্বপরি ঢোকার পথটি ঢালু হওয়ায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মোস্তাইন হোসেন আরও বলেন, ‘প্রবেশ পথের নির্মাণ ত্রুটির কারণে এখানে এতবড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আমরা নির্মাণ ত্রুটি অপসারণের সুপারিশ করেছি। বড় কোনও অনুষ্ঠান যেন এ ধরণের বদ্ধ জায়গায় আয়োজন করা না হয় তার জন্যও সুপারিশ করেছি।’
মহিউদ্দিনের ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এই ঘটনায় নাশকতার সন্দেহ করেছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন,‘নাশকতার কোনও প্রশ্নই আসে না। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। পূর্ব পরিকল্পিত বা শত্রুতাবশত ঘটানোর মতো কিছু পাওয়া যায়নি।’
দুর্ঘটনার পর লাল শার্ট পরা এক যুবকের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ওই যুবককে দায়ি করে তখন অনেকেই পদদলনের ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কিনা? ওই যুবক কে, তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘আমরা কনভেনশন সেন্টারের সামনের দিকের ভিডিও ফুটেজ পেয়েছি। সেখানে লাল শার্ট পরা কাউকে সন্দেহ জাগে এমন কিছু করতে দেখিনি। সে নিজেই পড়ে গিয়েছিল।’
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে অংশ নিতে গিয়ে নগরীর রীমা কমিউনিটি সেন্টারে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জন আহত হয়েছে। নিহত ও আহতরা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলেন। মহিউদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে মোট ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের আয়োজন করা হয়। তন্মধ্যে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আয়োজন করা।
এ ঘটনায় ওই দিন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। নগর পুলিশের উপ কমিশনার মোস্তাইন হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে সিএমপি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- নগর বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ কমিশনার জসিম উদ্দিন এবং নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) কাজল কান্তি নাথ।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবিরকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির, নগর পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা, গণপূর্ত উপ-বিভাগের প্রকৌশলী এস এম শাহরিয়ার নেওয়াজ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপফতরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার হবিগঞ্জে উদ্ধার, গ্রেফতার ২