চার নারীকে ধর্ষণ: দায় স্বীকার করে আদালতে একজনের জবানবন্দি

চট্টগ্রামচার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মিজান মাতব্বর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর ইপিজেড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দিন। মিজান মাতব্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মঈন উদ্দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মিজান মাতব্বর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আমরা তাকে আদালতে হাজির করেছি। সে এখন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত লুঙ্গি ও লুট করে আনা ১৩ হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ১০টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে কর্ণফুলী থানা পুলিশ এ ঘটনায় যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে এদের সম্পৃক্ততা নেই বলে আমাদের মনে হচ্ছে।’

যদিও এর আগে থানা পুলিশ জানিয়েছিল, আবু নামে একজন এই ঘটনায় জড়িত। ২৮ ডিসেম্বর তার টিআই প্যারেড (আসামি শনাক্ত করার জন্য ভুক্তভোগীদের সামনে উপস্থিত করা) করানোর কথা রয়েছে।

এই মামলায় আগে গ্রেফতার তিনজনের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়উঠান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন, ‘তিনজনের মধ্যে আবুকে থানায় গিয়ে শনাক্ত করেছেন ধর্ষণের শিকার নারীরা। পুলিশের কাছে সে নিজেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছিল। তার সম্পৃক্ততা না থাকার বিষয়টি সন্দেহজনক।’  

আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চার নারী ধর্ষণের ঘটনায় মিজান মাতব্বর নামে এক আসামিকে পিবিআই আদালতে হাজির করেছে। গ্রেফতার ওই আসামি মহানগর হামিক আল ইমরানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানাধীন শাহমীরপুর এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির পর ওই পরিবারের চার নারীকে ধর্ষণ করে ডাকাতরা। এ ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের হস্তক্ষেপে ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৭ ডিসেম্বর মামলা নেয় পুলিশ। ওই মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করলেও এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য বের করতে পারেনি। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ নিজেও ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করে।

সোমবার দুপুরে কর্ণফুলী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের আংশিক ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (বন্দর) হারুণ অর রশিদ হাযারী বলেন, ‘অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মামলা গ্রহণ করা থেকে শুরু করে ঘটনার তদন্তে পুলিশের আংশিক ব্যর্থতা রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় আলামত সংগ্রহ থেকে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল।’

পুলিশ ব্যর্থতা স্বীকারের পর মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ওই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।

আরও পড়ুন- 

চার নারী ধর্ষণ মামলার তদন্ত করবে পিবিআই

চার নারী ধর্ষণ: পুলিশের আংশিক ব্যর্থতা স্বীকার

চার নারী ধর্ষণ: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন