চার নারী ধর্ষণ: আরও একজন গ্রেফতার





আব্দুল হান্নান চার নারী ধর্ষণের ঘটনায় আব্দুল হান্নান (৪৫) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।
গ্রেফতার হান্নান স্থানীয় বড়উঠান ইউনিয়নের বাসিন্দা। ওই ইউনিয়ন থেকে তিনি মেম্বর নির্বাচন করেছিল বলে জানা গেছে। তিনি স্থানীয়দের কাছে হান্নান মেম্বর হিসেবে পরিচিত।
সন্তোষ কুমার চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আবু শামা, আব্দুল হান্নানের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। আবু শামা দাবি করেছে, আব্দুল হান্নান ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনাতেই ওই বাড়িতে ডাকাতি করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবু শামা বলেছে আব্দুল হান্নান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বাকিদেরকে আবু শামাই সংগঠিত করেছে। তবে হান্নানের জড়িত থাকার বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত নই। যেহেতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হান্নানের নাম এসেছে তাই আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি।’
গত ১২ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানার শাহমীরপুর এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির পর ওই বাড়ির একই পরিবারের ৪ নারীকে ধর্ষণ করে ডাকাতরা। এ ঘটনায় প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের হস্তক্ষেপে গত ১৭ ডিসেম্বর থানা পুলিশ মামলা নেয়। তবে তারা চাঞ্চল্যকর এই মামলার তেমন কোনও কূল কিনারা করতে পারেননি। এ ঘটনায় স্থানীয়রা থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে থানা পুলিশ এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল। পরে ২৫ ডিসেম্বর নগর পুলিশের ব্যর্থতা স্বীকার করার পর গত ২৬ ডিসেম্বর এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। এ ঘটনায় তারা এ পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে মিজান মাতব্বর নামে আরেকজনকে তারা গ্রেফতার করে। মিজান মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আরেক আসামি আবু শামা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়তে পারেন: চার নারী ধর্ষণ: কর্ণফুলী থানার ওসিকে শোকজ