জানা গেছে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৪৫ প্যাকেট দুম্বার মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৩২ প্যাকেট বিতরণ করা হয়। বাকি ১৩ প্যাকেট দুম্বার মাংস বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলায় দরজা বন্ধ করে ১৮ জন কর্মচারী ভাগ করে নিয়ে যান। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হট্টগোলের শব্দ শুনে সেখানে পরশুরাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু ইউসুফ গিয়ে দেখতে পান ইউএনও অফিসের ভারপ্রাপ্ত সিএ নুরল হুদা, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক চিরন্তন চাকমা, অফিস সুপার সঞ্জিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের অফিস সহকারী মো. শাহ আলম তালিকা করছেন। আরেকটি কক্ষে দা দিয়ে মাংস কাটছেন কয়েকজন। প্রত্যেকে আড়াই কেজি করে ভাগে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি করে মাংস ছিল।
আশ্রাফপুর এতিমখানার পরিচালনা পরিষদের সদস্য আবদুর রহিম ও আল আমীন এতিমখানার পরিচালক মো. মোস্তফা বলেন,‘রবিবার সকালে দুম্বার মাংসের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমকর্তার কার্যালয়ে যাই। সেখানে জানতে পারি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারীরা মাংস ভাগ করে নিয়ে গেছে। তখন আমরা খালি হাতে ফিরে আসি।’
ইউএনও অফিসের ভারপ্রাপ্ত সিএ নুরল হুদা কোনও মাংস নেননি দাবি করে বলেন, ‘মাংস ভাগবাটেয়ারা নিয়ে হট্টগোল দেখে আমি বাড়িতে চলে যাই। সেখানে ১৮ জন কর্মচারী নিজেরা কিছু মাংস ভাগ করে নিয়েছেন।’
নিজের সম্পৃক্ততার কখা অস্বীকার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.মেশকাতুর রহমান বলেন, ‘আমার অফিস সহকারী শাহ আলমসহ ১৮ জন কর্মচারী কয়েকটি প্যাকেট ভাগবাটোয়ারা করেছেন বলে শুনেছি।’
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের অফিস সহকারী মো. শাহ আলম বলেন, ‘১৮ জন কর্মচারী নিজেরা কিছু মাংস ভাগ করে নিয়েছি। বাকিগুলো নিয়ম অনুযায়ী দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।’