লক্ষ্মীপুরে মেঘনার তীরে অবৈধ সারের মজুদ, নদীপথে চলছে পাচার

মেঘনার তীরে সারের মজুদলক্ষ্মীপুরের কমলনগরের নাছিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে। এক মাস ধরে একটি চক্র মজুদকৃত এই সার বস্তায় করে নদীপথে জাহাজে ভরে পাচার করছে। তবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসেনি।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন কমলনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন নাছিরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার মজুদ করা হয়েছে। এক মাস ধরে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক মজুদকৃত চাকা আকৃতির সার রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করে বস্তায় ভরছেন। তবে এসব বস্তা জাহাজে ভরে নদীপথে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা বলতে পারেননি স্থানীয়রা। ওই মাঠে এখন প্রায় ১৫’শ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত কয়েকদিনে অন্তত চার হাজার বস্তা নদীপথে পাচার করা হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

শ্রমিকরা জানান, তারা স্থানীয় প্রভাবশালী আলমগীর মোল্লা, নুরুল ইসলাম ও রব মাঝির হয়ে এখানে কাজ করছেন। ভোলার বাসিন্দা ও চট্রগ্রামের ব্যবসায়ী কাঞ্চন এসব সার পাচারে মূলহোতা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মুঠোফোনে কাঞ্চন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাগরে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ জাহাজ থেকে সারগুলো নদীর তীরে এনে মজুদ করা হয়। এসব সার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হবে।’ তবে এই বিপুল পরিমাণ সার ব্যাক্তিগত কী কাজে ব্যবহার হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কমলনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ার বলেন, ‘সার মজুদ ও পাচারের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এসব সার কমলনগরের জন্য বরাদ্দের নয়। এ ব্যাপারে কৃষি অধিদফতরের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’