বুধবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ির রামগড়ে নির্মিতব্য বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সরকার পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখায়। এই আওয়ামী লীগের আমলে পদ্মা সেতু হবে না। আর যদি জোড়াতালি দিয়ে বানায়ও, তাহলে তাতে ওঠায় রিস্ক আছে।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফেনী নদীর ওপর রামগড়-সাবব্রুম হয়ে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতুর কিছু জটিলতা দূর এবং বিদ্যুৎ, পানিসহ ভারতের কিছু চাহিদা আছে। সেগুলো জানুয়ারির মধ্যে সমাধান করে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে সেতুর কাজ পুরোদমে শুরু হবে।’ এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।
এসময় হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ বিভিন্ন সংযোগ প্রকল্পে একযোগে কাজ করছে। ফেনী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুটিও তেমনি একটি প্রকল্প। এটি দক্ষিণ ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়কের ব্যবস্থা করবে।’
এদিকে রামগড়ের মহামুনী এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু ১ এর স্থান পরিদর্শন করেন সেতুমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনার। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন মিয়া, রামগড় পৌর মেয়র মো. শাহাজাহান রিপন প্রমুখ।
জানা গেছে, ২২৮ কোটি ৬৯ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৪১২ মিটার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। ২০১৫ সালের ৬ জুন ঢাকা সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনী নদীর ওপর রামগড়-সাবরুম মৈত্রী সেতু ১ এর ভিত্তি প্রস্তর উন্মোচন করেন।