মিঠুন চাকমা হত্যা: ইউপিডিএফ’র অবরোধে চলেনি দূরপাল্লার যানবাহন

খাগড়াছড়ি জেলা ইউপিডিএফ এর সংগঠক মিঠুন চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্নে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে জেলায় সকাল–সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলছে। শনিবার সকালে অবরোধে চলাকালে খাগড়াছড়ি শহরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নাইটকোচগুলো প্রবেশ করলেও দূরপাল্লার কোনও যানবাহন ছেড়ে যায়নি।

ইউপিডিএফ’র অবরোধ (ফাইল ছবি)অবরোধ সমর্থনে জেলার বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। দুপুরে জেলা শহরের কলেজিয়েট স্কুল এলাকায় পুলিশ ও পিকেটারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় উত্তেজিত পিকেটারেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ছুঁড়লে পুলিশের উপ-সহকারী পরিদর্শক আবুল হোসেনসহ ৩ জন আহত হন।

এছাড়া জেলা শহরের পার্বত্য জেলা পরিষদ অফিসের সামনের রাস্তায় একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও দিঘীনালার নয় মাইল এলাকায় পুলিশের রিকুইজিশন করা গাড়িতে পিকেটারেরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। এছাড়া অপ্রীতিকর আর কোনও ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, জেলার সব গুরুত্বপূর্ণস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা আছে।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার মিঠুনের লাশ ইউপিডিএফ’র জেলা কার্যালয়ে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশে নিতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়। প্রতিবাদে শনিবার খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফসহ সমমনা কয়েকটি সংগঠন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বেলা ১২টায় মিঠুন চাকমাকে খাগড়াছড়ি সদরের স্লইচগেট এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে শুক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি সদরের বটতলী এলাকার পারিবারিক শ্মশানে সাংগঠনিক ও সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে মিঠুন চাকমার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থার নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।