গত ২৮ ডিসেম্বর ছিল লংগদুর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়ি বানানোর চারটি প্যাকেজ টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। তবে কোনও ঠিকাদার এই টেন্ডারে অংশ নেননি। টেন্ডার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম জানান, কিছু শর্ত শিথিল করে আবার টেন্ডার আহ্বানের কাজ চলছে।
তিনটিলার ক্ষতিগ্রস্ত প্রেম লাল চাকমা বলেন, ‘আশা ছিল শীত আসার আগে নিজ বাড়িতে উঠতে পারবো। কিন্তু আর হবে বলে মনে হয় না। বৃষ্টি গেল, শীত যাচ্ছে। আমাদের কষ্ট আর শেষ হলো না। টেন্ডার ডেকেছিল শুনেছি, কিন্তু কেউ নাকি অংশ নেয়নি। এভাবে যদি হতে থাকে কয়েক বছর লাগবে মনে হয়। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাবো, যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে। শীতে মানুষগুলো কষ্ট পাচ্ছে, সেদিকে কেউ খেয়াল রাখে না।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির লংগদু উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনি শংকর চাকমা বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু শর্ত ছিল, সে কারণে কেউ টেন্ডারে অংশ নেয়নি বলে শুনেছি। টেন্ডার নেওয়ার শেষ তারিখেও কেউ শিডিউল না নেওয়ায় পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে ডাকেন এবং বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। উপজেলা প্রকৌশলী না থাকায় কাজের গতি আসছে না। কিছু শর্ত শিথিল করে আবার টেন্ডার আহ্বানের সিদ্ধান্ত হয়।’
৭নং লংগদু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র আদু জানান, ‘শীতের কারণে সব চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অল্পবিস্তর শীতের কাপড়চোপড় দিয়েছে, তাও যে শীত পড়ছে তাতে কোনও কাজে আসবে না। তারপরও কিছুটা সহায়ক হবে।’
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম বলেন, ‘আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার পর কেউ টেন্ডারে অংশ নেয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত থাকায় কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারপরও কাজ থেমে নেই। আগের কিছু শর্ত শিথিল করে আবার টেন্ডার আহ্বানের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পে লেখা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করে বাড়ি বানানোর কাজ শুরু করতে পারবো।’
উল্লেখ্য, গত ১ জুন লংগদুর মোটরসাইকেল চালক ও লংগদু ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নকে খাগড়াছড়ির চার মাইল এলাকায় দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। পরের দিন ২ জুন বাইট্টাপাড়া থেকে তার লাশ নিয়ে লংগদু উপজেলা মাঠের দিকে আসার সময় বিক্ষোভ মিছিল থেকে পাহাড়ি তিনটি গ্রামে হামলা চালানো হয়। এসময় দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে অন্তত ২১৫ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পক্ষ থেকে প্রায় ৮শ’ লোককে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।