ডেমু ট্রেনের চালক ও যাত্রী সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে আসা নির্দিষ্ট ডেমু ট্রেনটি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে লাকসামে যাত্রাবিরতি দেয়। কিছু সময় পর লাইন ক্লিয়ার দেখে চালক ট্রেনটি ছেড়ে দেন। ট্রেনটি স্টেশনের পয়েন্ট ২১-বি লাইন দিয়ে লোকশেড পর্যন্ত পৌঁছানোর সময় ট্রেনের চালক কামাল হোসেন দেখতে পান রেললাইনের ট্রেপ (ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ ও বাইর হওয়ার সময় ট্রেনের লাইন পরিবর্তনের জন্য রেললাইনের ফাঁকা স্থান বিশিষ্ট এক ধরনের সিগন্যাল বিশেষ) ফাঁকা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই চালক ট্রেনটি থামিয়ে ফেলেন এবং ট্রেনটি আবার প্লাটফর্মে প্রবেশ করান। এসময় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা শুরু করেন। নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেনটি আবার কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ট্রেনের যাত্রী কুমিল্লা পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, ভুল সিগন্যালের কারণে আমরা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। ট্রেন দেড় ঘণ্টা পর ছাড়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
ট্রেনের চালক মো. কামাল হোসেন জানান, ভুল সিগন্যালের কারণে শুক্রবার লালমাই স্টেশনে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছিল। আজও আবার একই ধরনের ভুল করেছেন স্টেশন মাস্টার। দুর্ঘটনার ট্রেপটি থেকে ট্রেনটি মাত্র ১২-১৩ হাত দূরে ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন না থামাতে পারলে লাইনচ্যুত হয়ে তা পাশের পুকুরে পড়ে যেত। এতে ব্যাপক প্রাণহানী ঘটতো।
লাকসাম রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জালাল উদ্দিন জানান, কেবিনে যারা ছিল, তারাই সিগন্যাল দিয়েছিল। কিছু ভুল-ভ্রান্তি ছিল। পেছনে থাকা কর্ণফুলী ট্রেনের জন্য যে সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল, ডেমু ট্রেনের চালক সে সময় লাইন ক্লিয়ার মনে করে ট্রেন ছেড়ে দিয়েছিল।