খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে নাশকতার চেষ্টা করা হলে বিএনপি নেতাদের স্থাপনায় পাল্টা হামলা করার যে হুমকি দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ—তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। ছাত্রলীগের এই হুঁশিয়ারিকে অসাংবিধানিক এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহানগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা সন্ত্রাসী। বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাহারা দেওয়া এখন পুলিশের দায়িত্ব। এখন যদি অন্য কেউ বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় হামলা চালায়, তারপরও আমরা ধরে নেবো ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই হামলা চালিয়েছে।’
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) বিকালে নগরীর দারুল ফজল মার্কেটে মহানগর ছাত্রলীগের কার্যালয়ে জরুরি সভা হয়। সভায় ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে চট্টগ্রামে নাশকতার চেষ্টা করলে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বাসাবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য স্থাপনায় পাল্টা হামলা করা হবে।
ছাত্রলীগের এই হুমকির বিষয়ে চট্টগ্রাম বিএনপির সভাপতি বলেন, ‘ছাত্রলীগ প্রশাসনকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা সন্ত্রাসী। এরপরও পুলিশ কেন তাদের গ্রেফতার করছে না আমার বুঝে আসে না। তারা আগ বাড়িয়ে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এর মানে, তারা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এটাতো আসলে হতে পারে না। দেশে যদি পুলিশ একটা ইনস্টিটিউশন হয় এবং তাদের যদি নিয়মনীতি থাকে তাহলে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘোষণা দিয়ে কখনই পার পেতে পারে না। এখন যদি পুলিশ আওয়ামী যন্ত্রে পরিণত হয় তাহলে তো আর কিছু করার থাকে না।’
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রকৃত রূপ হচ্ছে এটাই। তারা আগেও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে এরা আমার হাসপাতালের সামনে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের ক্ষেত্রেই সাজে। কারণ, তারা নিজেরা নিজেদের হত্যা করছে, চাঁদাবাজি করছে, মারামারি-গুণ্ডামি করছে। এই রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের গ্রেফতার করার কথা পুলিশের। কিন্তু পুলিশ সেটি না করে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে তাদের না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করছে। সকালে হাসপাতালে রোগী দেখতে গিয়েছেন এমন কয়েকজন নিরীহ মানুষকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।’
মহানগর বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা এখনও বলছি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবো এবং এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। রাস্তায় থাকা, মিছিল করা, মিটিং করা এটা আমাদের অধিকার। সেখানে যদি কেউ সহিংসতার আশ্রয় নেয় তাহলে পুলিশ তাদের বাধা দেবে, তাদের গ্রেফতার করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও সহিংসতার কথা বলিনি এবং আমার নেত্রীও বলেননি। এটা ছাত্রলীগ আগ বাড়িয়ে বলেছে। এটাই তাদের চরিত্র। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তো আওয়ামী লীগ নেতাদেরও আছে। কিন্তু আমরা তো একবারও উচ্চারণ করিনি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হবে। কারণ, এই চরিত্রটা বিএনপি নেতাকর্মীদের নেই।’
এদিকে ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারির ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘এখানে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের বিষয় নয়। এটা আদালতের বিষয়। রায় মনঃপূত না হলে তারা (বিএনপি) আদালতে যাবে। তাদের রাস্তায় না নামাই উচিত।’
ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের ঘটনা মানুষের মন থেকে যায় নাই। বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষত এখনও মনে আছে। সেই ক্ষোভ থেকেই মহানগর ছাত্রলীগ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা নাশকতা চালাতে পারে সন্দেহে আমরা মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ আগুন দিলে আমরা তাদের ঠেকাবো। ফৌজদারি অপরাধ করলে পুলিশে ধরিয়ে দেবো।’
আরও পড়ুন- চট্টগ্রামে নাশকতা হলে বিএনপিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা: ছাত্রলীগ