বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় অধিষ্ঠিত: রাষ্ট্রপতি

সমাবর্তনে বক্তৃতাকালে রাষ্ট্রপতি

‘দীর্ঘ অগণতান্ত্রিক শাসনের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশ আজ  উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় অধিষ্ঠিত’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তনে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি সূচকে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। আমরা এরইমধ্যে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো।’

ক্রেস্ট প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি

তিনি আরও বলেন,‘এই উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি আমাদের যুব সমাজ। প্রায় ৬ কোটি নারী-পুরুষ আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট আহরণের এক অপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ  সম্ভাবনার এক উজ্জল সময় অতিক্রম করছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তরুণদের সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জাতি গঠনের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, যেখানে মেধা বিকাশের সব পথ উন্মুক্ত থাকে। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয় বরং দেশ বিদেশের সর্বশেষ তথ্য সমৃদ্ধ শিক্ষা, গবেষণা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে সম্পৃক্ত হতে পারে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে।’ এসময় রাষ্ট্রপতি ছাত্র-শিক্ষক সর্ম্পকের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির জন্য ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষকদের হতে হবে স্নেহপ্রবণ ও আভিভাবকতুল্য।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষর্থীরা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের কৃষিতে পড়তে শুরু করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি ও প্রাণিসম্পদের অব্যাহত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন জাত ও পদ্ধতি আবিষ্কারে মনোযোগী হতে হবে। বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে গবেষণা ও আবিষ্কারের ফল যাতে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে তাও নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবর্তনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। সমাবর্তনে বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমিরেটাস ড.এ কে আজাদ চৌধুরী। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা ৮৪৪ জন, স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ২১৬ জন এবং ২ জন পিএইচডি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পটিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত