মিয়ানমারের মংডু চিকনছড়ির বাসিন্দা কালু (৮০) বলেন, ‘জন্মগতভাবে আমরা মিয়ানমারের বাসিন্দা। অতীতে কখনও দেশ ছাড়তে হয়নি। কিন্তু গত বছরের সহিংসতায় এক ধরনের জিম্মি দশায় ছিলাম। পাঁচ দিন ধরে বাড়িঘর থেকে বের হতে পারিনি। এরপর পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছি। বর্তমানে আমাদের জন্য নতুন ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। খাদ্য ও চিকিৎসাসহ সার্বিক মানবিক সহায়তা পাচ্ছি। তারপরও এখানে ভালো লাগছে না। জন্মভূমি ছেড়ে ভিন দেশে থাকা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই এই মুহূর্তে দেশে ফিরে যেতে আমাদের আইনি সহায়তা দরকার।’
শুধু তারা নয়, এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় উখিয়ার ওই ক্যাম্পে অবস্থানকারী রাখাইন রাজ্যের চিকনছড়ি হিন্দুপাড়ার নীতিশ রুদ্রের ছেলে বিমল রুদ্র (৪০), কালু রুদ্রের ছেলে রুবালা রুদ্র (৩৫), নিরঞ্জন রুদ্রের ছেলে সুমন্ত রুদ্র (২৭), রাখাইনের বাইল্যাখালী হিন্দুপাড়া এলাকার হিন্দু দম্পতি সুনীল রুদ্র (৩০) ও মিনা বালা রুদ্রসহ (২৫) অনেকের।
হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বয়ক বাবুল শর্মা জানান, হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা, খাদ্য ও বাসস্থানসহ কোনও কিছুর অভাব নেই। এরপরও সবার অজান্তে এই ক্যাম্প থেকে ছয়টি পরিবারের ২৭ জন হিন্দু রোহিঙ্গা মিয়ানমারে পালিয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে হিন্দুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা রয়েছে। আমরা সেভাবেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারে সহিংস ঘটনায় মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু ১৬৫টি পরিবারের ৫২৩ জন পালিয়ে আশ্রয় নেন উখিয়ার কুতুপালং গ্রামে। মিয়ানমারের রাখাইনে চিকনছড়ি গ্রামে গণহত্যার অজুহাতে এসব হিন্দু রোহিঙ্গা সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে চলে আসেন। এরপর তাদের জন্য খোলা হয় লঙ্গরখানা।