জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। তখন তারা উপাচার্যের কাছে ছাত্রলীগের আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন। এই সময় উপাচার্য আটক কর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার ও প্রক্টরের পদত্যাগের ব্যাপারে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে যাচাই-বাছাই শেষে আটকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে আমরা আটকদের ছেড়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে কোনও মামলা হয়নি। ’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. মামুন বলেন, ‘ছাত্রলীগের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন ছাত্রলীগের কর্মীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা না হলে ছাত্রলীগ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।’
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের দুষ্কৃতকারী আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এ ঘটনায় সংগঠনটি তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাতে চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মিহির কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে কতিপয় দুষ্কৃতকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তারা শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত শাটল ট্রেন বন্ধ, পরিবহন পুলে হামলা, প্রক্টরের কার্যালয় ও জিমনেশিয়াম ভাঙচুর করে। শিক্ষক সমিতি মনে করে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পড়াশোনায় বিঘ্ন করাই তাদের উদ্দেশ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের প্রদত্যাগ দাবি করে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু স্থানে হামলা চালায়।