এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের পর হত্যা, চট্টগ্রামে ছয় জনের যাবজ্জীবন

আদালতএক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিশেষ জজ সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় দিয়েছেন। একই মামলার রায়ে আদালত আরও এক আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের পিপি জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মাহবুব আলম, হাবিবুর রহমান, মিলন বড়ুয়া, আমিনুল হক, আবুল কাশেম, নুরুল আলম ও সমির দাশ। আসামিদের মধ্যে সমির দাশ কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা সবাই পলাতক।

ট্রাইব্যুনালের পিপি জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সমির দাশ ছাড়া বাকি ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। অন্যদিকে সমির দাশকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই রায়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আদালত ইউনুস, সৈয়দ ও মুনির নামে আরও তিনজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।’

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালের ২১ জুন পটিয়া উপজেলার ছত্তরপিটুয়া গ্রামের দিলীপ বড়ুয়ার ছেলে সুভাষ বড়ুয়াকে (১৬) নিজ ঘর থেকে অপহরণ করে আসামিরা। সুভাষ ওই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আসামিরা তাকে অপহরণের পর তার বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সুভাষের আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সুভাষের বাবা দিলীপ বড়ুয়া বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ পরবর্তীতে ১১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আসামিরা আদালতে স্বীকার করে, তারা সুভাষকে অপহরণের পর ঈদগাঁও এলাকায় পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পর তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলে।