তমব্রু সীমান্তে বেড়েছে মিয়ানমারের সেনা, বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ভিড়

তমব্রু সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঘর (ফাইল ছবি)বান্দরবানের তমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখানো অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার। নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করার পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্তে সেনা সদস্য বাড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করছেন।

মিয়ানমারের ঢেকিবুনিয়া সীমান্তের তংপিও লিতওয়ে এলাকায় মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠকের পরও তমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের ভীতি প্রদর্শন থামেনি। আতঙ্কিত হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গাদের মধ্যে অধিকাংশ সরে গেছে তমব্রু সীমান্ত থেকে। আজও বেশ কিছু রোহিঙ্গা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়ে জিরো পয়েন্ট ছেড়ে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ও ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ভিড় বাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তমব্রু সীমান্তে রোহিঙ্গারা (ফাইল ছবি)

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সীমান্তে সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গা থাকলেও তাদের মধ্যে যারা অসুস্থ বা বয়স্ক তাদের ইতোমধ্যে কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখোলা সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া মাইকিংয়ের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অনবরত ভয়ভীতি প্রদর্শনের ফলে সম্প্রতি অর্ধেকের বেশি রোহিঙ্গা নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে পালিয়ে গেছে। তারপরও আমরা রোহিঙ্গাদের এই মাইকিংয়ে বিব্রত না হওয়ার জন্য বলেছি। আমাদের আশ্বাসে এখনও অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছে। আগে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা ছিল, এখন অর্ধেকেরও কম সংখ্যক রোহিঙ্গা রয়েছে সেখানে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আগের তুলনায় বেশি মিয়ানমারের সেনা সদস্য অবস্থান করছে।’

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘ওপারে সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আমিও রোহিঙ্গাদের জড়ো হওয়ার খবর শুনেছি। শোনামাত্রই আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেছি। তবে এখনও বিষয়টি সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই।’

গত ২৬ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের তমব্রু কোনারপাড়ার নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয় সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গা।