চাঁদপুরের ছেলেই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, আনন্দে ভাসছে কচুয়া

কচুয়ার দেববাড়িতে বিপ্লব দেবের স্বজনরাভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজিপির প্রদেশ সভাপতি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিপ্লব কুমার দেবের (৪৮) নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বিজেপি’র পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে বিপ্লব কুমার দেবের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণার খবরে তার পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুরের কচুয়ায় মেঘদাইর গ্রামের মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছেন। তবে বিপ্লব মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন খবরে আরও আগে থেকেই কচুয়ায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। 

বিপ্লব দেবের চাচা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা কৃষক লীগের সেক্রেটারি প্রাণধন দেব জানান, ‘সে (বিপ্লব কুমার দেব) এখন ব্যস্ত আছে। আমাদের কারও ফোন কল রিসিভ করতে পারছে না। শপথ নেওয়ার পর আমাদের সঙ্গে বিপ্লবের কথা হতে পারে।’কচুয়ার দেববাড়িতে বিপ্লব দেবের স্বজনরা

এদিকে কচুয়া উপজেলার পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সোহাগ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি আমাদের দেশের এবং আমাদের ইউনিয়নের গৌরব। এই ইউনিয়নের একজন বাঙালি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে বিপ্লব কুমার দেবকে একটা সংবর্ধনা দেওয়ার চেষ্টা করবো। এ জন্য তার চাচা প্রাণধন দেবের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ করবো। তিনি যদি সম্মতি দেন, তাহলে আমরা খুব সুন্দর করে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো।’

প্রাণধন দেব জানান, বিপ্লব দেব তিন বোনের একমাত্র ভাই। তার বাবা কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামের সন্তান স্বর্গীয় হিরুধন দেব। মায়ের নাম মিনা রানী দেব। তার বাবা-মা বাংলাদেশে থাকাকালে গর্ভধারণ করেছিলেন তা মা। তবে ত্রিপুরার মাটিতেই জন্মগ্রহণ করেন বিপ্লব দেব।  মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা-মা ত্রিপুরা চলে যান। এরপর সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান তারা। তবে তার আত্মীয়স্বজন অনেকেই এখনো কচুয়া বসবাস করেন।

বিপ্লব দেব গত বছর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে বিজেপির প্রতিনিধি দলের প্রধান হয়ে যোগদান করেন। সম্মেলন শেষে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি তার গ্রামের বাড়ি কচুয়ায় আসেন। ওইদিন  কচুয়া প্রেসক্লাব তাকে সংবর্ধনা দেয়।