কাজির দেউরিতে জনসভার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি

বিএনপিদুর্নীতির মামলায় জেলে থাকা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ডাকা জনসভা কর্মসূচি পালনে পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) মহানগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি লালদীঘি মাঠে এই সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিলেও পুলিশ তাদের কাজির দেউরি এলাকায় সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে।
এর আগে গত ৯ মার্চ দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ১৫ মার্চ লালদীঘি মাঠে জনসভা করার ঘোষণা দেয় নগর বিএনপি। এরপর গত ১১ মার্চ দুপুরে সমাবেশের অনুমতি নিতে পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।
ডা. শাহাদাত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা লালদীঘি মাঠে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এজন্য আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আমাদের সেখানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। তারা মৌখিকভাবে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে কাজির দেউরিতে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে।’
কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে সিএমপি থেকে জানানো হয়েছে মহানগর বিএনপিকে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আমাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, কাজির দেউরিতে সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও নেতাকর্মীরা যেন সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্য পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ধরপাকড় চালাচ্ছে এবং তাদের বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দিলেও আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে সমাবেশে উপস্থিত না থাকে সেজন্য ধরপাকড় শুরু করেছে। আজকের সমাবেশ সফল করার জন্য বৈঠককালে ডবলমুরিং থানা পুলিশ আমাদের ২৫-৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে তাদের কারও নামে ওয়ারেন্ট নেই।’
তিনি বলেন, ‘শুধু ডবলমুরিং থানা নয়, অন্যান্য থানার পুলিশও আমাদের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে গিয়েছে। সমাবেশে যেন নেতাকর্মীরা উপস্থিত না থাকে সেজন্য পুলিশ বাসায় বাসায় গিয়ে নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’
ডবলমুরিং থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক নুর ইসলাম বলেন, ‘রাতে গোপন বৈঠককালে বিএনপির ৩৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।’