‘আমরা তাদের কাছে চিরঋণী’

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা কোনও কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধ করেননি। প্রিয় মাতৃভূমিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা ওই সময় যুদ্ধ করেছিলেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যারা এখনও সার্টিফিকেট নেননি। সুযোগ-সুবিধা পেতে সার্টিফিকেট নেওয়ার প্রয়োজনবোধও করেননি। তারা প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রু মুক্ত করতে যুদ্ধ করেছেন। আমরা তাদের কাছে চিরঋণী।’ চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুর ১২টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম জিমনেশিয়াম হলে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি এস এম মনির উজ জামান, সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার ও জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা।

এর আগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৬ মার্চ) নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সকালে সূর্যোদয়ের পরপরই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এরপর একে একে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি এস এম মনির উজ জামান, সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া এসময় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংগঠন।

পরে সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সেখানে নগরীর বিভিন্ন স্কুল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে শুরু হয় কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে এবং শরীর চর্চা প্রদশর্নী। বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ডিসপ্লে উপভোগ করেন।

ডিসপ্লেতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, নিরস্ত্র বাঙ্গালির প্রতিরোধ এসব স্মৃতিগাথা ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে একই মাঠে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে পুলিশ, আনসার সদস্যদের পাশাপাশি নগরী ও জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

পরে  এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান।