মা-মনি হাউজের (গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানা) মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছরের ২৯ মার্চ পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে আমার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযান চালানোর আগেই আমার পরিবারসহ সব ভাড়াটিয়াকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর অভিযান শেষে দুই মাস পর পুলিশের কাছে লিখিত শর্তের মাধ্যমে বাড়িতে ফিরে আসি। তিনতলা ভবনের নিচতলার যে ইউনিটে দুই জঙ্গি ছিল সেই ইউনিটসহ নিচতলায় চারটি পরিবার নিয়ে আমি বসবাস করছি।’ ভবনের দোতলায় আরও তিনটি পরিবার রয়েছে। তিনতলায় নির্মাণকাজ চলায় সেখানে আপাতত কেউ থাকছে না।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিচতলার ওই ইউনিটে দুজন থাকতো। একজনের বয়স ৩৫-৪০ বছর হবে, যার মুখে বড় দাঁড়ি ও মাথায় বড় চুল ছিল। অন্যজনের বয়স কম হলেও মুখে হালকা দাঁড়ি ও বড় বড় চুল ছিল। তারা সবসময় দরজা বন্ধ করে থাকতো।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের অভিযানে বাড়ির অনেক ক্ষতি হয়েছে। সরকার কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি। পুলিশ এখনও খোঁজ-খবর নেয়। ২/১ মাস পর পর সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ বাড়িতে এসে পরিদর্শন করে যাচ্ছে।’
নব্য জেএমবির সদস্য আনাছ ও রনি নামে দুই জঙ্গির সন্ধানে গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে চার দিন যাবৎ ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এর আগে ৭ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তীরচর এলাকার পুলিশ দুই জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানা ছাড়া কুমিল্লায় আর কোনও আস্তানায় জঙ্গির সন্ধানে অভিযান চালানো হয়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে দুজনকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে পালিয়ে যেতে চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের চেষ্টায় দুই জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েকদিন পর কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতির একটি বাড়িতে জঙ্গির সন্ধানে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে কোনও জঙ্গির সন্ধান না পেলেও বেশ কয়েকদিন জেলা পুলিশের জিম্মায় ছিল বাড়িটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নিরাপত্তা ছিল সেখানে। ২-৩ মাসের মতো বাড়িটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে বাড়ির মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ডিএসবি আলমগীর হোসেন বলেন, “দুটি ঘটনার মধ্যে গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানা ছিল ভয়াবহ। গন্ধমতি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’ চালানো হয়েছিল। গন্ধমতিসহ যেসব এলাকায় অভিযান বা জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখনও পুলিশের নজরদারি রয়েছে।”
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গন্ধমতি জঙ্গি আস্তানাটি এখনও আমাদের নজরে রয়েছে। তবে আস্তানায় বাড়তি কোনও পুলিশ নেই। অভিযানের দুই মাস পর জুন মাসের দিকে জেলা পুলিশের লিখিত শর্তের মাধ্যমে দেলোয়ার হোসেনকে বাড়িতে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে বাড়ির মালিকসহ একাধিক পরিবার বসবাস করছে।’
আরও পড়তে পারেন: ফ্ল্যাটটি এখনও খালি, রয়েছে গুলির চিহ্ন