জানা গেছে, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত থাকা কক্সবাজারে বিভিন্ন পর্যটন স্পট থাকলেও শিশুকিশোরদের বিনোদনের জন্য কোনও পার্ক বা বিনোদনকেন্দ্র নেই। কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে রামু উপজেলার রাজারকুলে বোটানিক্যাল গার্ডেনটি গড়ে তোলা হলেও তা এখন ঝোঁপ-জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এতে করে বোটানিক্যাল গার্ডেনটি পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোমলমতি শিশুকিশোররা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বোটানিক্যাল গার্ডেন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ জুলাই কক্সবাজার বনবিভাগ রামু উপজেলার রাজারকুল বনভূমির ৪০ একর জায়গায় বোটানিক্যাল গার্ডেনটি গড়ে তোলা হয়। তবে লোকবল সংকট ও অর্থভাবে তা এখন পরিত্যক্ত হওয়ার পথে।
সম্প্রতি বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে দেখা গেছে, গার্ডেনে বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফলের গাছের বদলে এখন জায়গা করে নিচ্ছে ঝোঁপ-জঙ্গল। চারদিকে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বনবিভাগের কাটা গাছ। এসব কারণে পর্যটকসহ স্থানীয়রাও সেখানে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে।
রামুর খিজারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা (১৫) বলে, ‘স্কুল ছুটির পর আমার মায়ের সাথে এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরতে এসেছি। কিন্তু এই গার্ডেনে ফুলের যে বাগানগুলো ছিল, তা নেই। পুরো গার্ডেনে বনবিভাগের নিলামের জন্য রাখা গাছের স্তূপ।’ বোটানিক্যাল গার্ডেনটি সংস্কার করার দাবি জানায় সে।
বোটানিক্যাল গার্ডেনের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গার্ডেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘রামুতে বোটানিক্যাল গার্ডেনটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কোনও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে টিকেট নেওয়ার অনুমতি। লোকবলের অভাবে পুরো বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঝোঁপ-জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বাজেট পেলে বাগানের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।’