মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার ফারুক-উল-হক এ তথ্য জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি দেশীয় বন্দুক, ৭টি কার্তুজ ও একটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার অপর দুই আসামি হলেন, মনছুর আহম্মদের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (২৭) ও মো. বেলাল হোসেন (২৭)। আসামিদের মধ্যে মনছুর নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সিডিএ মার্কেট সংলগ্ন আব্দুল মোনাফ ডাক্তারের বাড়ির মৃত জমির আহম্মদের ছেলে। তার নামে পাহাড়তলী থানায় ৫টি, হালিশহর থানায় ২টি, আকবর শাহ থানায় ৩টি, ডবলমুরিং থানায় ৪টি এবং খুলশী থানায় ১টি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে রানা এন্টারপ্রাইজে ডাকাতির সময় বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা মাসুদ রানাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফারুক-উল-হক বলেন, গত ৫ এপ্রিল রাতে গ্রেফতার আসামি মনছুরের নেতৃত্বে আসামিরা রানা এন্টারপ্রাইজে ডাকাতি করতে যায়। এসময় দোকানের মালিক মাসুদ রানা বাধা দিলে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মো. হেলাল উদ্দিন নামে একজনকে আমরা গ্রেফতার করি। গত ২১ এপ্রিল হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সে জানায় ঘটনার সময় মনছুর অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হেলালের তথ্যের ভিত্তিতে সোমাবার (২৩ এপ্রিল) রাতে অভিযান চালিয়ে আমরা মনছুরকে গ্রেফতার করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি ঘটনার পূর্বে তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে নিয়ে ঘটনার পরবর্তীতে ফের তার স্ত্রীর হেফাজতে রাখে বলে সে আমাদের জানায়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে পুলিশ কোহিনুর বেগম ও অপর আসামি বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। আসামি মনছুর আহম্মদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, দুস্যূতা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নগরীর বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা দায়ের রয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনার বিবরণে আসামিরা জানিয়েছে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডাকাতির উদ্দেশে ওই দিন রাতে তারা সিএনজিতে করে ডিমের আড়ৎ রানা এন্টারপ্রাইজে যায়। আড়তে প্রবেশ করে রানাকে প্রথমে আসামী মো. হেলাল হাতে থাকা মরিচের গুড়া চোখে মুখে নিক্ষেপ করে। পরে আসামি মনছুর ঘটনাস্থলে দোকানের সামনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে আশেপাশে লোকজনদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অন্যরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় আরও দুই-তিন জন জড়িত আছেন। আমরা তাদের গ্রেফতার করা চেষ্টা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের সহাকারী কমিশনার (ডবলমুরিং) আশেকুর রহমান, ডবলমুরিং থানার ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও ওসি (তদন্ত) জহির হোসন উপস্থিত ছিলেন।