সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডের কোনারপাড়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিধি দলটি। এসময় তারা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নানা নির্যাতনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। একপর্যায়ে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রতিনিধি দলের অনেকে। রোহিঙ্গা নারীরা তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন। এই সময় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি গুস্তাভো মেজার চুয়াদ্রা, চীনের প্রতিনিধি হাই থাউ ও, রাশিয়ার প্রতিনিধি ডিমেথ্রি পুলেনাক্কিসহ জাপান, পুলেন্ড, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনৈতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ বলেন, ‘সকালে ৩০ সদস্যের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি দল আমাদের দেখতে আসেন ক্যাম্পে। প্রতিনিধি দল আমাদের কাছে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার প্রকৃত ঘটনা জানতে চান। আমরা তাদের যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি।’
শফিউল আলম নামের আরেক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘রাখাইনে সেনাবাহিনীর বর্বর নানা নির্যাতনের কথা শুনে তারা বিস্মিত। তারা আমাদের বলছেন- রাখাইনের ঘটনাটি যদি পুরোপুরি সত্যি হয়, তাহলে আমরা ফিরে গিয়ে একটি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি কিভাবে সুরাহা করা যায়; তা গুরুত্ব সহকারে দেখবো।’
ব্রিফিং শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এ সফর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।’
এদিকে, সাংবাদিকদের ব্রিফিং শেষে ফিরে যাওয়ার সময় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা বিক্ষোভ করেছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকে এই বিক্ষোভ করা হয়। এসময় ‘আমার দেশ বাংলাদেশ নয়’, ‘আমরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই’, ‘আমাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই’ ও ‘আমাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের বিচার চাই’সহ নানা স্লোগান দেয় তারা। এসময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা এসে বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয়।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর এ পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।