উড়ে গেছে চাল, ভেঙে পড়েছে দেয়াল

কমলনগরে ঝড়ে স্কুলের চাল উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে দেয়ালকালবৈশাখী ঝড়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ চর মার্টিন চৌধুরী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ভেঙে গেছে। উড়ে গেছে টিনের চাল। এতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত হওয়া ঝড়ে বিদ্যালয়ের এই ক্ষয়ক্ষতি হয়।

চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইমান আলী বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবন ভেঙে গেছে। টিনের চালা উড়ে গিয়ে অন্য স্থানে পড়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দুইটি শ্রেণিকক্ষ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ঝড়-বৃষ্টির এ মৌসুমে খোলা আকাশের নিচেও পাঠদান অনিশ্চিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

কমলনগরে ঝড়ে ভেঙে পড়া স্কুলের শিক্ষার্থীরাষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুশরাত জাহান ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শাহিন চৌধুরী জানায়, ঝড়ে তাদের বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয় ভেঙে পড়ায় শ্রেণি কক্ষে যেতে পারছে না তারা।’

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের যাতে পাঠদান বন্ধ না হয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল ও ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কমলনগর ও সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এ সময় ঝড়ের সঙ্গে ব্যাপক শিলাবৃষ্টিও হয়।

কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন, চর লরেন্স, তোরাবগঞ্জ, হাজিরহাট ও মেঘনা উপকূলীয় ফলকন, সাহেবেরহাট ও চর কালকিনিসহ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে কম-বেশি ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে, উড়ে গেছে বসতঘরের টিনের চালা। ভেঙে পড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫ শতাধিক গাছ। শিলাবৃষ্টিতে সয়াবিন, বাদাম, মরিচ, শাক-সবজিসহ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তার ছিঁড়ে গেছে, এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।