রমজান মাস উপলক্ষে ব্যস্ত দিন কাটছে কুমিল্লা বিসিকের মুড়ি কারখানাগুলোর মালিক-শ্রমিকদের। প্রচণ্ড গরমেও শ্রমিকরা মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কুমিল্লা বিসিকের এই মুড়ি যাচ্ছে দেশে-বিদেশে। বিসিকে একাধিক মুড়ির কারখানা থাকলেও রমজান মাসকে সামনে রেখে ৪টি কারখানায় মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা বেশি। রাত-দিন মেশিনের গর গর শব্দে মুখর বিসিক এলাকা। এখানে প্রধানত গিগজ মুড়ি,আছিয়া মুড়ি ও স্বর্ণা মুড়ি ভাজা হয়। গিগজ ৭০ টাকা,আছিয়া ৬০টাকা এবং স্বর্ণা কেজি ৪৮ টাকা দামে পাইকারি বিক্রি হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি মুড়ি কারখানায় শ্রমিকরা মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ চাল দিচ্ছেন, কেউ গরম গরম ভাজা মুড়িগুলো বস্তায় নিচ্ছে, আবার কেউ মাথায় নিয়ে গুদামজাত করছে। শত শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে উৎপাদিত কুমিল্লা বিসিকের মুড়ি দেশের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর কুমিল্লাসহ সারা দেশে চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে বিদেশেও।
রমজান মাসে রোজাদারদের কাছে ইফতারের অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে মুড়ি। মুড়ি ছাড়া যেন ইফতার জমেই না।
মুড়ি তৈরির কয়েকজন কারিগর জানান, রমজান মাসের চাহিদা ছাড়াও সারা বছরই হাজার হাজার মন মুড়ি পাইকার ও আড়তদারদের সরবরাহ করা হয়। কুমিল্লা বিসিকের মুড়ি শুধু চাল আর লবণ দিয়ে ভাজা হয়। এ কারণ এখানকার মুড়ি দিন দিন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে বিসিক ছাড়াও কুমিল্লা দিদার মার্কেটে ২টি, সদর দক্ষিণের বেলতলীতে ৫টি মুড়ির মিল রয়েছে।
নগরীর রাজগঞ্জে মুড়ি কিনতে আসা কামাল হোসেন জানান, রমজান উপলক্ষে প্রতি বছরই বিসিকের মুড়ি ক্রয় করি। কারণ কুমিল্লা বিসিকের মুড়ি কারখানাগুলোতে কোনও সার বা রাসায়সিক দ্রব্য ব্যবহার করে না। যতটুকু জানি চালে শুধু লবণ মিশিয়ে মুড়ি তৈরি করা হয়,তা খেতেও সু-স্বাদু। পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে মুড়ির দাম বেশি নেওয়া হয়। এ দিকে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
বিসিকের বিসমিল্লাহ মুড়ি মিলের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া মাহফুজ জানান, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বেড়েছে। তারা মুড়ির মান ঠিক রাখে না। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মুড়ি ভাজে। তাদের কারণে আমাদের মুনাফা করা কঠিন হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,‘বিসিক শিল্প নগরী এলাকা হলেও আমরা কারখানা ক্যাটাগরির গ্যাস সংযোগ পাইনি। আমাদের দেওয়া হয়েছে কর্মার্শিয়াল গ্যাস লাইন। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।