কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলায় ২০০৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করে কৃষকেরা ফলন পেয়েছে মাত্র ২৫০০ মেট্রিক টন। ২০১৫ সালে ১৯৬০ হেক্টর জমিতে ফলন হয়েছিল ৭৮৪০ মেট্রিক টন। চলতি বছর প্রায় ২৫০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮৫০০ মেট্রিক টন লিচুর উৎপাদন হয়েছে বলে ধারণা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
লিচু চাষি তাওহীদুল ইসলাম এবছর চায়না-২ জাতের লিচু চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তবে দাম কম হওয়ায় তিনি খুশি নন।
তিনি বলেন, শুক্রবার তিনি ২ হাজার ২০০ লিচু পেড়েছেন। এ কাজ করতে দুই শ্রমিককে দিতে হয়েছে ৬০০ টাকা। আর বাজারে আনতে পরিবহন খরচ হয়েছে ২০০ টাকা এবং পৌরসভার ট্যাক্স ১৫০ টাকাসহ সবমোট ৯৫০ টাকা খরচ করেছেন। আর লিচু বিক্রি করে পেয়েছেন ১৬৫০ টাকা। উৎপাদন,পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে তার হাতে রয়েছে মাত্র ৭০০ টাকা।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার ময়ূর কুমারি চাকমা বলেন, এ বছর ১ একর জমিতে লিচু চাষ করে এক লাখ টাকা আয় করেছেন। চায়না-৩ জাতের একশ’ লিচু তিনশ’ টাকা করে বিক্রি করছেন। ভালো দাম পেয়ে খুশি ময়ূর কুমারি।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সফর উদ্দিন বলেন, এ বছর কৃষকেরা লিচুর উৎপাদন বাম্পার হওয়ায় অনেক খুশি। কৃষকেরা চায়না-৩ লিচুর ভালো দাম পাচ্ছে। তাছাড়া আবহাওয়া ভালো ছিলো, পোকা মাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় ফলন খুব ভালো। লিচু রসালো যেমন হয়েছে, তেমনি সু-স্বাদু হয়েছে। কৃষকেরা যেমন খুশি, ক্রেতারাও খুশি।
তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়ির চায়না-২ লিচুর বাম্পার ফলন হলেও ফলে পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং ফলের রসালো অংশের চেয়ে বিচি বড় বিধায় গ্রাহকরা কম কিনছেন বিধায় দাম কম পাচ্ছেন চায়না-২ এর চাষিরা।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ির লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্রগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।