স্থানীয়দের মতে, শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়নের নামে পাহাড় কেটে বিভিন্ন এলাকার সড়কে সৃষ্ট গর্ত ভরাটসহ নতুন সড়কে মাটি দেওয়া হয়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসত-বাড়ি নির্মাণ করায় বর্ষাকালে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে ঘরের ওপর আঁছড়ে পড়ে। এতে মাটি চাপা পড়ে প্রাণহানি ঘটে অনেকের। বিগত বছরগুলোতেও এভাবে পাহাড় ধসে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এভাবে অতিবর্ষণ অব্যাহত থাকলে এবারও পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ইসলামপুরের মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের পক্ষে ভালো কোনও সমতল জায়গা কেনা সম্ভব নয়। পাহাড় দামে সস্তা, তাই আমি পাহাড় কিনে এখানেই ঘর বেঁধে পরিবার নিয়ে থাকছি। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রচারণা চালালেও পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেই প্রশাসনের।’
পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিতে থাকা কালাঘাটার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমি অনেক কষ্ট করে এ জায়গাটি কিনে পাহাড়ের জঙ্গল সামান্য ছাটাই করে ঘর তৈরি করেছি। প্রতি বছর বর্ষাতে আমি পরিবারকে নিয়ে ভয়ে ভয়ে রাত যাপন করি। পাহাড় প্রতিবছরই কম বেশি ধসে পড়ে। তবে, এখনও আমাদের এখানে বড় ধরনের সমস্যা না হলেও এবারের টানা বর্ষণে আমি পরিবার নিয়ে ভয়ে আছি।’
এদিকে হাফেজ ঘোনার কামাল জানান, শনিবার বিকাল থেকে বান্দরবানসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে যারা থাকেন, বর্ষাকালে তাদের জন্য সেখানে থাকাটা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, এত পরিবারকে একসঙ্গে পুনর্বাসন করাও প্রশাসনের পক্ষে হঠাৎ করে সম্ভব নয়। পরিস্থিতি দেখে তাদের সরিয়ে নিরাপদে নিয়ে আসি। এখনও আমরা ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছি। তাদের যেন কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য আশ্রয় কেন্দ্র ও বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।’