গত ৩ মে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা তার নিজ কার্যালয়ের সামনে দুবৃর্ত্তদের গুলিতে নিহত হন। এর ফলে পদটি শূন্য হয়। আগামী ২৫ জুলাই উপনির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ত্রিদিব কান্তি দে বলেন, ‘শক্তিমান চাকমা তার নিজ কার্যালয়ের সামনে নিহত হওয়ার পর অনেকে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে সাহস করছে না। অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে অস্ত্রের মুখে ভোট ডাকাতি হতে পারে এবং উপনির্বাচনের নির্বাচিত প্রতিনিধির মেয়াদ কম থাকায় টেকনিক্যাল কারণে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।’
নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ নবী রেজা বলেন, ‘যেখানে ক্ষামতাসীন দল প্রার্থী দিতে পারেনি, আমরা কীভাবে দিই! সারাদেশে আওয়ামী লীগের জয়ের কথা শুনি, আর পার্বত্য এলাকায় তারা প্রার্থীই দিতে পারে না।’
এরই মধ্যে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রগতি চাকমা ও কল্পনা চাকমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহিত সমিতি (জেএসএস)সমর্থিত প্রণতি চাকমা ও রূপম দেওয়ান মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
উপ-নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানান, ২৬ জুন মনোনয়নপত্র বাছইয়ের দিন সবকটি মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে। আগামী ৩ জুলাই রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন নির্ধারণ করা আছে।
ইউপিডিএফের অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেন, ‘সরাসরি আমাদের কোনও প্রার্থী নেই। জনগণ যাদের পক্ষে থাকবে আমরাও তাদের পক্ষে থাকবো। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। যদি ভোট ডাকাতি না হয়, তাহলে অবশ্যই জনগণের রায়কে আমরা স্বাগত জানাবো।’
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বড় দুটি রাজনৈতিক দল কেন নির্বাচন করছে না, সে বিষয়টি আমাদের জানা নেই। গত উপজেলা নির্বাচনেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল না।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি চাকমা বলেন, ‘জয়ের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। যদি কোনও ভোট ডাকাতি না হয়, তাহলে জনগণের রায় আমাদের প্রার্থীর পক্ষেই যাবে।’
বড় দুই দল কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি স্বল্প সময়ের জন্য নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের জন্যও সময় খুব কম। আমার মনে হয়, তাই তারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।’