‘শুনেছি তারা অনেক বড় নেতা’

বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস

‘এ নেতাদের আমি চিনি না। তবে শুনেছি তারা নাকি অনেক বড় নেতা। আমি তাদের বলেছি রোহিঙ্গারা শুধু খাবারের জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসেনি। মিয়ানমার সেনারা বহু রোহিঙ্গাকে হত্যা ও ধর্ষণ করেছে। আমরা প্রাণে বাঁচতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছি।’  রাস্তা দাঁড়িয়ে রোহিঙ্গা যুবক নুর আলম এভাবেই কথাগুলো বলেন।

এসময় রোহিঙ্গা নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশি দুই বড় নেতা রোহিঙ্গাদের দেখতে এসেছেন। তবে কোন দেশ থেকে এসেছেন আমি জানি না। রোহিঙ্গাদের এ কষ্ট কখন শেষ হবে তাও জানি না। এইভাবে আর কতো বছর রোহিঙ্গাদের দেশহীন হয়ে থাকবে।’

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের দিকে যাওয়ার পথে কক্সবাজার-উখিয়া সড়কে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়া থাকা রোহিঙ্গাদের দেখে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কথা বলেন। তবে এসময়  বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম গাড়ি থেকে নামেনি। জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।

এসময় রোহিঙ্গা যুবক নুর আলম আরও বলেন,‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী কত রোহিঙ্গাকে যে জবাই করে ও পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তার কোনও হিসেব নেই। সে দেশের সেনারা রোহিঙ্গাদের সহায় সম্বল লুট করে নিয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ  থেকে বিতাড়িত করতে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। ’ 

এসময় রোহিঙ্গা যুবক রুহুল আমিন (২৮) বলেন,‘আমার বাড়ি মিয়ানমারের মংডু রাইম্ম্যাবিল গ্রামে। মিয়ানমার সেনাদের কারণে আমি আজ এখানে। কারণ তারা রোহিঙ্গা যুবকদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করেছে। ঘর থেকে ডেকে নিয়ে অনেক যুবককে গুম করেছে। এখনও অনেক যুবক নিখোঁজ।’

জাতিসংঘের মহাসচিব এসময় রুহুল আমিন আবার মিয়ানমার ফিরে যেতে চায় কিনা জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই ফিরে যাবো, তবে এমবিসি কার্ড নিয়ে নয়। রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই আমরা ফিরে যাবো।’ এসময় কেউ কোনও মন্তব্য করেনি। শুধু তার কথাগুলো খাতায় নোট করা হয়।  
সোমবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনি গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উখিয়ার ট্রানজিট পয়েন্টে রোহিঙ্গা শিবিরে যান। সেখানে গিয়ে তারা নারী-পুরুষসহ ২০ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

এ ব্যাপারে ত্রাণ ও পূর্নবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অবস্থা জানতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম  সোমবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাংলাদেশ বিমান (ইএ১৭০৮) একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে কক্সবাজার পৌঁছান। পরে তাদের সায়মন বিচ রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রথমে তারা কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ হয়ে উখিয়ার ট্রানজিট পয়েন্টের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। পরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যান।