‘অপরাধের দায়ে সাধারণ মানুষের শাস্তি হলে, ডাক্তারদের নয় কেন?’

01অপরাধের দায়ে যদি সাধারণ মানুষের শাস্তি হতে পারে তবে চিকিৎসকরা ভুল করলে তারা কেন শাস্তির আওতায় আসবে না এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক রোগী। সেলিম উদ্দিন নামে এই রোগী বলেন, ‘যারা এখন ডাক্তারি করছেন, তারা একসময় মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তারা মেডিক্যাল কলেজে নিজের টাকায় পড়েনি। আমাদের দেওয়া (জনগণের) ভ্যাটের টাকায় পড়াশোনা করে আজ তারা আমাদেরকেই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে না। তারা আমাদের জিম্মি করে রাখছে।’
সেলিম উদ্দিন চট্টগ্রাম নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। ডায়াবেটিস পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে সোমবার (৯ জুলাই) সকালে নগরীর শেভরন হাসপাতালে আসেন এই ভুক্তভোগী।
সেলিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সব ডাক্তার খারাপ নয়। একশ ডাক্তারের মধ্যে যদি দুইজন অপরাধ করে থাকে, বাকি ৯৮ জন ডাক্তারই ভালো। এই ৯৮ জন ডাক্তারের উচিত অভিযুক্ত ডাক্তারদের সঙ্গ ত্যাগ করে তাদের শাস্তি দেওয়া, অথচ ডাক্তাররা সেটি করেননি।’
চিকিৎসকের অবহেলায় সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর অভিযোগে আলোচনায় থাকা চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালে রবিবার (৮ জুলাই) অভিযান চালায় র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে হাসপাতালের ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। একই দিন নগরীর প্রবর্তক মোড়স্থ সিএসসিআর হাসপাতালেও অভিযান চালায় র্যা ব। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ওই হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিকাল ৩টা থেকে চট্টগ্রামের সব বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে সেবা বন্ধ ঘোষণা করে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতি নামে একটি সংগঠন। এরপর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নগরীর সব বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এসময় নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। তাদেরকে ভর্তি না করে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগে করা রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টও দেওয়া হয়নি।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে শেভরন হাসপাতালের সামনে কথা হয় রাঙামাটি থেকে আসা হাজী মোহাম্মদ ইসহাকের সঙ্গে। কিডনি রোগের ডায়ালাইসিস করতে তিনি এই হাসপাতালে এসেছেন।
হাজী মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডায়ালাইসিস করতে আজ সকালে এসে হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। ডায়ালাইসিস করতে পারবো কিনা সেটিও নিশ্চিত নই।’
সিএসসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন বোয়ালখালীর বাসিন্দা মহিউদ্দিন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞর কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে সকাল ৭টায় হাসপাতালে এসেছি। শহরে এসে জানলাম ডাক্তাররা অবরোধ ডেকেছেন, চিকিৎসাসেবা দেবেন না।’
মহিউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৃথিবীর আর কোনও সভ্য দেশে এ ধরনের কোনও নজির খুঁজে পাবেন না। যারা চিকিৎসা প্রদানের শপথ নিয়েছেন সেই ডাক্তাররাই চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন।’ তিনি চিকিৎসার নামে যেসব চিকিৎসক রোগীদের জিম্মি করে দুর্ভোগে ফেলেছেন তাদের শাস্তির দাবি জানান।