‘র‌্যাব ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ রাখায় চিকিৎসকদের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে’

ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি (ফাইল ফটো)র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ করায় বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতি তাদের ডাকা ধর্মঘট সাময়িক স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ডা. আবুল কাশেম। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ ঘোষণার কর্মসূচির সঙ্গে সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর ঘটনার কোনও সম্পর্ক ছিল না। র‌্যাব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতালগুলোকে অন্যায্য জরিমানা করেছেন, আমরা তার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি দিয়েছিলাম। সোমবার (৯ জুলাই) রাতে মোবাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. আবুল কাশেম বলেন, ‘র‌্যাব সামনে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করবে না, প্রশাসন থেকে এমন আশ্বাস পেয়ে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। আর অভিযান পরিচালনা করা হবে না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় দুপুরে আমরা ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছি। পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টিও আমাদের মাথায় ছিল।’
তাহলে কি র‌্যাব হাসপাতালগুলোতে অভিযান পরিচালনার এখতিয়ার রাখে না? এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কাশেম বলেন, ‘র‌্যাব চাইলে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অভিযান পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু তারা অভিযানের নামে যে পরিমাণ অর্থদণ্ড দিচ্ছেন সেটি মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাই আমরা এর প্রতিবাদ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসাসেবায় কিছু টেকনিক্যাল বিষয় থাকে যেগুলো এই শাস্ত্র অধ্যয়ন করা ছাড়া জানা যায় না। তাই আমরা চাই এ ধরনের অভিযান স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিচালনা করুক।’
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগেও র‌্যাব এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে। আমরা তখনও এসব ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে অতিরিক্ত অর্থদণ্ড প্রদান করায় আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। পরে বিএমএ’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আমরা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসন থেকে আশ্বাস পেয়েছি, র‌্যাব আর এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করবে না। তাই আমরা আমাদের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেছি। এভাবে অভিযান চালিয়ে অন্যায়ভাবে যদি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোকে জরিমানা করা হয় তাহলে আমরা আবারও এ ধরনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’
চিকিৎসকের অবহেলায় সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর অভিযোগে আলোচনায় থাকা চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালে রবিবার (৮ জুলাই) অভিযান চালায় র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে হাসপাতালের ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ ১১টি বিষয়ে অনিয়ম পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। একইদিন নগরীর প্রবর্তক মোড়স্থ সিএসসিআর হাসপাতালেও অভিযান চালায় র্যা ব। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ওই হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিকাল ৩টা থেকে চট্টগ্রামের সব বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে সেবা বন্ধ ঘোষণা করে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতি নামে একটি সংগঠন। এরপর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নগরীর সব বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এসময় নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। তাদেরকে ভর্তি না করে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগে করা রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টও দেওয়া হয়নি।