সোমবার (৬ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ম্যানেজিং কমিটি, সুশীল সমাজ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সভায় ট্রাফিক ব্যবস্থা, গণপরিবহনের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে তারা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি স্কুলের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, স্পিড ব্রেকার তৈরি, স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য স্কুল বাস সার্ভিস চালু, ফুটপাত অবমুক্ত করা ও দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করেন।
এসময় হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, ‘অফিস আওয়ারে পাবলিক বাসগুলো রিজার্ভ ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করেন। তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে সিট পাওয়া যায় না। পুরুষ যাত্রীরা কোনওভাবে যেতে পারলেও এসময় আমরা (নারীরা) অনেক ভোগান্তিতে পড়ি। আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।’
বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের অধ্যক্ষ অঞ্জন কুমানর নন্দীসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকে যেসব দাবি এসেছে, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসব দাবি পূরণের চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৯টি দাবি সরকার গ্রহণ করেছে। সরকার এর সঙ্গে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। স্কুলের সামনে ট্রাফিক পুলিশ দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার পদক্ষেপ নেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপানাদের কাছ থেকে যেসব দাবি এসেছে তার অধিকাংশ মেয়রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আমরা আশা করছি, মেয়র এসব দাবি পূরণে কাজ করবেন। সরকারি স্কুল কলেজ, বেসরকারি স্কুল কলেজের নিজস্ব ফান্ডে প্রচুর টাকা থাকে। আপনারা যদি চান ওই টাকা থেকে স্কুল বাস কিনবেন। বাস কেনার ক্ষেত্রে সরকারি যেসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় ওইসব ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই অনিয়মের প্রতিবাদ করবো। কিন্তু কখনওই আইন নিজের হাতে তুলে নেবো না।’
ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমাদের দেশের ড্রাইভাররা অসভ্য। তারা যে যেভাবে পারে সেভাবে গাড়ি চালায়। সাধারণ মানুষতো আরও ভয়াবহ। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া, ফুটওভার ব্রিজে না গিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।’
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট একটি জটিল প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে শুধু ট্রাফিক পুলিশ জড়িত না। এর সঙ্গে ইনফোর্সমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন, এনভাইরনমেন্ট চারটিই জড়িত। এগুলো ঠিকমতো কাজ করলে ট্রাফিক সিস্টেম পাল্টে যাবে।’
সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘করপোরেশনের অধীনে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে আগামী তিন দিনের মধ্যে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে স্পিড ব্রেকারও দেওয়া হবে। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ছাউনি প্রস্তুত করা হচ্ছে তারই সঙ্গে সড়কের ওপর ফুট ওভার ব্রিজও করা হচ্ছে। করপোরেশনের অধীনে ১২টি মহিলা বাস ছিল। ব্যবহার না করার কারণে ওই বাস সার্ভিস বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’