মামলার সূত্র ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি মুজিবুল হক জানান, দেবিদ্বার উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের গোমতী নদীর পাড়ে ওষুধ ও মোবাইল ফোন রিচার্জের দোকান ছিলো ওই গ্রামের আবদুল জলিল সরকারের ছেলে নাসরুল হাসান স্বপনের। ২০০৯ সালের পাঁচ অক্টোবর রাতে বাড়ির ৫০ গজের মতো দূরে মানুষের গোঙরানির শব্দ শুনতে পান আবদুল জলিল সরকার। তিনি গিয়ে দেখেন তার মেঝো ছেলে স্বপনকে কে বা কারা গলা কেটে রেখে গেছে। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক স্বপনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরদিন ৬ অক্টোবর আবদুল জলিল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১২ জনের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ওই বছরের ৮ নভেম্বর শুধু শফিকুল ইসলামকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, স্বপনের ওষুধ ও মোবাইল ফোন রিচার্জের দোকানে গিয়ে রিকশা চালক শফিক বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নিতো। কখনও ফেরত দিতো, কখনো দিতো না। হত্যকাণ্ডের দিন ধার চাইলে স্বপন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। ওই দিন স্বপন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় শফিক প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে পাশের ধান খেতে নিয়ে গলা কেটে দেয়। এদিকে গায়ে রক্ত নিয়ে বাড়িতে গিয়ে শফিক তার বড় ভাই আবদুল কাদেরের কাছে স্বপনকে হত্যার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। তদন্ত শুরু হলে আবদুল কাদের পুলিশের কাছে তার ভাই শফিকের অপরাধের কথা জানায়।