রাজ-পরীর সাদা শাবকটি দেখতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড়

সাদা বাঘবাঘিনী পরীর সঙ্গে খুনসুটিতে ব্যস্ত ছানা দু’টি। এর মধ্যে একটির গায়ের রঙ হলুদের ওপর কালো ডোরা কাটা। অন্যটি সাদার ওপর কালো ডোরা। ১৯ জুলাই  চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘের সাদা শাবকটি জন্ম নিয়েছে। এটাই দেশের প্রথম সাদা বাঘশাবক। এটি  দেখতে প্রায় প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, সাদা বাঘের ছানাটি মা বাঘিনীর সঙ্গে খেলা খুনসুটি করছে। বাঘের বাচ্চাটিকে দেখার জন্য খাঁচার সামনে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ভিন্ন রঙের বাঘ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা।

নগরীর খুলশী এলাকা থেকে ছেলেমেয়ে নিয়ে বাঘের বাচ্চাটি দেখতে এসেছেন রাবেয়া বেগম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুনেছি চিড়িয়াখানায় থাকা বাঘিনী সাদা বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। ছেলেমেয়েকে সাদা রঙের ছানাটি দেখাতে নিয়ে এসেছি। ছানাটি আসলেই অনেক সুন্দর।’

বাবার সঙ্গে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আইমান। সে বলে, ‘সাদা বাঘের কথা আগে শুনিনি, আজ চোখে দেখলাম। ছানাটি খুব সুন্দর।’

সাদা বাঘটির কারণে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দর্শক আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনও চিড়িয়াখানায় এ ধরনের সাদা বাঘ নেই। মা-বাবার জিনে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে কিছুটা ভিন্নতার কারণে এ ধরনের প্রাণির জন্ম হয়। এ ধরনের সাদা বাঘ পার্শিয়াল ও ফুল পার্শিয়াল দুই ধরনের এলবাইনো হয়ে থাকে। আমাদের বাঘের ছানাটি ফুল পার্শিয়াল। মা-বাবার জিন ক্রসিংয়ের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে এটির জন্ম হয়েছে।’

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘ শাবকবাঘটি কবে জন্মেছে  জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৯ জুলাই বাঘ দম্পতি রাজ-পরীর ঘরে তিনটি বাঘ শাবক জন্ম নেয়। ২০ জুলাই বাঘিনীর পায়ের চাপায় পিষ্ট হয়ে একটি মারা যায়। মারা যাওয়া ওই শাবকটিও সাদা রঙের এলাবাইনো ছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেড় মাস বয়সী এই সাদা বাঘ ছানাটি বাঘিনী। এই বাঘ থেকে এ ধরনের আরও সাদা বাঘ জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় হলে এই সাদা বাঘটি দিয়েই বংশ বিস্তারের সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানায় এভাবেই সাদা বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আশা করছি আমরাও পারবো।’

সাদা বাঘ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী সৈয়দ মোহাম্মদ আসতম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে এটি বিরল ঘটনা। এর আগে বাংলাদেশে এ ধরনের কোনও বাঘ দেখা যায়নি। তবে ভারতে এ ধরনের  বাঘ রয়েছে।১৯৫১ সালে ভারতে সর্বশেষ একটি সাদা বাঘ শিকার করা হয়। সেটির নাম দেওয়া হয় ‘মোহন’। ওই বাঘের বংশধররাই ভারতের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় আছে।’

মা পরীর সঙ্গে বাচ্চা দুটিতিনি বলেন, ‘চিড়িযানায় জন্ম নেওয়া বাঘ শাবকটি এলবাইনো। কোনও প্রাণি সচরাচর যে রঙের হয় তার চেয়ে ভিন্ন রঙের হলে তাকে এলবাইনো হিসেবে অ্যাখ্যা দেন প্রাণিবিজ্ঞরা।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এইচ এম রায়হান সরকার বলেন, ‘মেলানিনের কারণে কোনও প্রাণী স্বাভাবিক রঙ থেকে ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে মেলানিন বেশি হলে কালো রঙের হয়। আর যখন মেলানিন কম হয় তখন সাদা হয়ে যায়।’

777

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১ মাস বয়সী রাজ এবং ৯ মাস বয়সী পরীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়। ৩৩ লাখ টাকায় আনা এই বাঘ দু’টি দেড় বছরের মাথায় গত ১৯ জুলাই তিনটি বাঘ শাবকের জন্ম দেয়। এর মধ্যে ২০ জুলাই একটি মারা যায়। অন্য দুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।