বান্দরবানে শ্মশান থেকে উদ্ধার অজ্ঞাত নারীর মরদেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে উল্লেখ করে মৃত্যুর বিষয়টি আত্মহত্যা নয় বলে জানিয়েছেন,সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাজেদুর রহমান।
তিনি বলেন, বিষয়টি হত্যা বলা না গেলেও উদ্ধার লাশের বুকে এবং গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে লাশটি বেশি পচে যাওয়ায় মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। এছাড়া গলায় বা মুখে চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে কিনা তাও বলা যাচ্ছে না।
তার দাবি,ওই নারীর হাতের একটি আঙুলে বিদ্যুতের তার পেঁচানো ছিল, আমার মনে হয় তা শুধুমাত্র আই ওয়াশ। কারণ বিদ্যুৎ সংযোগ অবস্থায় কখনো নিজের আঙুলে তার পেঁচানো সম্ভব নয়।
ডিএনএ টেস্ট প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর বিষয়টি খোলাসা হবে বলে জানান তিনি।
গত ৭ আগস্ট দুপুরে বান্দরবানের বাস স্টেশনস্থ কেন্দ্রীয় শ্মশানের ভেতর থেকে অজ্ঞাত ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ। পরে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয় বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে।
তবে মৃত্যুর বিষয়টিকে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড নয় বলে ধারণা করছেন বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াছির আরাফাত। তিনি বলেন, ওই নারী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। আপাতত এটি হত্যা বলে মনে হচ্ছে না। এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
এদিকে এ ধরনের ঘটনা প্রথম হওয়ায় শহরের বিভিন্নস্থানে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে স্থানীয় মাইক্রো স্টেশনের কয়েকজন চালক বলেন, কোরবানির ঈদে অনেক পর্যটক বান্দরবান বেড়াতে এসেছেন। এ সময়ে কোনও পর্যটক সাথে আনা কোনও প্রেমিকা বা কোনও মেয়েকে মেরে শ্মশানের ভেতর ফেলে চলে যেতে পারে। তাদের দাবি বিদ্যুৎ চলমান অবস্থায় কেউ নিজ হাতের আঙুলে বিদ্যুতের তার পেঁচাতে পারে না।
শ্মশানের গেইটের চাবি বাহক রুপন কান্তি দাশ জানান, শ্মশানের জন্য লাশ ঘর নির্মাণের কারণে বেশিরভাগ অংশই খোলা রয়েছে। তাই ভেতরে প্রবেশে বর্তমানে গেইট খোলার প্রয়োজন পড়ে না। যে কেউ অনায়াসে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
তার দাবি, আশপাশের কোনও জায়গায় ওই নারীকে মেরে শ্মশানের ভেতরে রাখা হয়েছে। এখানে যে বিদ্যুতের তার রাখা আছে তা আগে থেকেই কেউ জানতো বলে ধারণা তার। এ কাজটি আশপাশের পরিচিত কেউ করে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।