সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ছাদ ও দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। ভিতরে মেঝেগুলো স্যাঁতস্যাঁতে। নেই বিদ্যুৎ, আলো, বাতাস ও পানির ব্যবস্থা। কক্ষের সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির দুই শতাধিক কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে বসিয়ে। এতে শিক্ষার্থীদের রোদ-বৃষ্টির দুর্ভোগে পড়তে হয় প্রতিদিন।
স্কুল সূত্র জানায়, উপজেলার শিলমুড়ী দক্ষিণ ইউনিয়নের সুন্দরদৌল গ্রামের শিক্ষানুরাগী রাজচন্দ্র দাস এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশে ১৯৭০ সালে তিনি তার নিজস্ব ৩৩শতক জমিতে সুন্দরদৌল বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। সেই থেকে বিদ্যালয়টি এলাকায় ধারাবাহিক শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির মান সম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ না হওয়ায় পরিত্যক্ত সেমিপাকা বিল্ডিং আর বারান্দায় গাদাগাদি করে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক বৈরি আবহাওয়া রোদ কিংবা বৃষ্টির সময় ছাত্রছাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাফসা, সামিয়া ইসলাম, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রায়হান হোসেন, ছাত্রী শ্রাবন্তি রানী শীল এবং শিশু শ্রেণির ছাত্রী পরশ মণিসহ কয়েকজন জানান, বারান্দায় বসে পড়ালেখা করতে গিয়ে প্রতিদিন তারা দুর্ভোগে পড়ছেন। এছাড়া বৃষ্টির সময় শ্রেণি কক্ষের ভাঙ্গা চাল দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। তারা অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্যেও ক্লাশ করতে পারছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্মৃতি রানী বণিক জানান, বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। মান সম্পন্ন শ্রেণিকক্ষের অভাবে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দফতরে একাধিকবার অবহিত করা হলেও সংকট দূর হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আরিফুর রহমান জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুবিধার্থে সুন্দরদৌল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের মাধ্যমে একাধিকবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।