গুইমারায় ভেঙে ফেলা বৌদ্ধ মূর্তি ও মন্দির নতুন করে নির্মাণের আশ্বাস

স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে ভেঙে ফেলা বৌদ্ধ মন্দির ও বুদ্ধ মূর্তি পুনর্নিমাণের আশ্বাস দেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার দুর্গম কুকিছড়া এলাকায় পরিত্যক্ত সেনাক্যাম্পের সরকারি খাস জায়গায় নির্মিত  বৌদ্ধ মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলার চান্দামুনি বৌদ্ধবিহারে এলাকাবাসী ও ভিক্ষু সংঘদের নিয়ে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এ সভা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গুইমারা সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এ কে এম সাজেদুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. শাহেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান, মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নওরোজ, সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুবায়েত মাহামুদ, জেলা পরিষদ সদস্য মংসুইপ্রু চৌধুরী, গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি বাসন্তী চাকমা প্রমুখ। 

প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এসময় এলাকাবাসী ও ভিক্ষুসংঘদের কথা শুনেন এবং তাদের দাবি অনুযায়ী আগামী দুই এক মাসের মধ্যে নতুন করে বিহার নির্মাণ ও বুদ্ধ মূর্তি স্থাপনের আশ্বাস দেন। এদিকে চান্দেমুনি বৌদ্ধবিহার এলাকায় আলোচনা সভা চলাকালে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফের ব্যানারে গুইমারা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে শত শত নারী ও পুরুষ। এসময় চান্দামুনি বৌদ্ধ বিহার থেকে এসে ভিক্ষুসংঘ, প্রশাসনের লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের শান্ত করেন।

উল্লেখ্য, গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নে গত সোমবার দিবাগত রাতে বৌদ্ধ মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে অপপ্রচার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।