কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পের আরও দুই লাখ ২৪ হাজার ৯৫১ জন রোহিঙ্গা শিশুকে খাওয়ানো হবে কলেরা টিকা। একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের একলাখ ৩ হাজার ৬০৫ জন স্থানীয় শিশুকেও এই টিকা খাওয়ানো হবে। চতুর্থ বারের মতো ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ক্যাম্পেইন আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ইউনিসেফের সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করবে কক্সবাজার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে টিকা কর্মসূচির অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মতিন। এই টিকাদান ক্যাম্পেইন আয়োজন করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য আরও রাখেন– ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মায়নুল হাসান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কো-অর্ডিনেটর ডা. জামশেদুল করিম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা উচাপ্রু মার্মা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইতোমধ্যে তিনটি কলেরা টিকা ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হয়েছে। চতুর্থ কলেরা টিকা ক্যাম্পেইন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইউনিসেফ। এই বারে কলেরা টিকা খাওয়াতে কাজ করবে ছয় সদস্যের ৭০টি দল। এ ছাড়া, স্থানীয়দের খাওয়াতে কাজ করবে আরও ১২টি দল। ক্যাম্পে অবস্থিত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোতে এই টিকা খাওয়ানো হবে।
অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, টিকার আওতায় আসবে ২০১৭ সালের পর আসা একবছরের বেশি বয়সের রোহিঙ্গা শিশুরা। ২০১৭ সালের অক্টোবরের আগে আসা ১২ থেকে ২৩ মাসের রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য এক ডোজ এবং ক্যাম্প নিকটবর্তী স্থানীয় শিশুদের এক ডোজ করে টিকা খাওয়ানো হবে। আগে যারা দুই ডোজ টিকা পেয়েছে তাদের আর টিকা দেওয়া হবে না। এ ছাড়া, এক বছরের কোনও শিশুকে টিকা খাওয়ানো হবে না। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকা খাওয়ানো হবে। শুক্রবার বন্ধ থাকবে। যারা টিকার আওতায় আসবে তাদের টোকেন দেওয়া হবে। টোকেন ছাড়া কেউ টিকা পাবে না।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে তিনটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাত লাখ রোহিঙ্গাকে কলেরা টিকা খাওয়ানো হয়েছে। এবার চতুর্থ ক্যাম্পেইনে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৫১ জনকে খাওয়ানো হবে। সাথে স্থানীয় একলাখ তিন হাজার ৬০৫ জনকে এ টিকা খাওয়ানো হবে। এই ক্যাম্পেইন সফল করতে আমরা সব প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’