চবির দিয়াজ হত্যা: দুই বছরেও তদন্তের কোনও অগ্রগতি নেই

দিয়াজ ইরফান চৌধুরী

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর হত্যা মামলার জট এখনও খুলেনি। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এই মামলার কোনও অগ্রগতি নেই বলে তার পরিবারের অভিযোগ। গ্রেফতার হয়নি কোনও আসামি।

এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দিয়াজের বড় বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘দুই বছর হয়ে গেছে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। আদালতে যতটুকু হওয়ার হয়েছে। প্রশাসন কোনও ধরনের সাহায্য করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন,‘আমার মা যখনই ক্যাম্পাসে যান দিয়াজের আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করতে দেখেন। এমনকি তারা আমার মাকে দেখে হাস্যরস করে। বিষয়টা একটা ছেলে হারা মায়ের জন্য কতোখানি দুর্ভাগ্যজনক।’

এ ব্যাপারে দিয়াজ হত্যার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,তদন্ত চলেছে, সাক্ষ্য প্রামাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাদীপক্ষ যেসব তথ্য দিয়েছে তা আমরা সংগ্রহ করছি। নিরপেক্ষ জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। আরও কিছু সাক্ষ্য প্রয়োজন আছে। তারপর তদন্ত শেষ হবে।

এসময় আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে কোনও অগ্রগতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।

দিয়াজ ইরফানের অনুসারী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো.মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘দুই বছরেও দিয়াজ হত্যার আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি। কি কারণে এতো সময় লাগছে আমারা তা বুঝতে পারছি না। আসামিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।’

এদিকে, ছেলে হত্যার বিচারে দাবি করে বেশ কয়েকবার গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে অনশনে বসে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘জয় বাংলা’ চত্ত্বরে দিয়াজের পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। এসময় তিনি দিয়াজ হত্যার বিচার দাবি করেন।

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন উত্তর ক্যাম্পাসে নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজের লাশ। ঘটনার পর দিন প্রথম দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। তিন দিন পর (২৩ নভেম্বর) ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন দেয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে দিয়াজের পরিবার এ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করে আসছিল। দিয়াজের লাশ উদ্ধারের চার দিন পর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। এসময় তিনি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক সহকারী প্রক্টর, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক ১০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। দিয়াজের মায়ের আপত্তির ফলে আদালত সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। এরপর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি টিম দিয়াজের বাসা পরিদর্শন করেন। পরে ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দিয়াজের শরীরে হত্যার হত্যার আলমত রয়েছে বলা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিয়াজের মায়ের করা এজাহার হত্যা মামলা হিসেবে নিতে হাটহাজারী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।