ফেনী-৩ আসনে লাঙল নয়, নৌকার প্রার্থী চায় আ.লীগ

ফেনী

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা–সোনাগাজি) আসনে ’৯০ সালের পর থেকে টানা ২৮ বছর জয়হীন আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে ‘একতরফা’ নির্বাচনে জয়ের সুযোগ এলেও জোটের কারণে আসনটি ছেড়ে দিতে হয় জাতীয় পার্টিকে (জাপা)। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান এবং নেতাকর্মীরাও একাট্টা। আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে সরব এক ডজন প্রার্থী। তারা জানিয়েছেন, সবাই নৌকার দাবিদার হলেও তাদের মধ্যে বিভেদ নেই। সব পক্ষের কর্মীদের অভিন্ন চাওয়া আর সেটি হলো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। তারা জানান, আসনটিতে লাঙল নয়, নৌকার প্রার্থী চায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে অভিনেত্রী শমী কায়সার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আক্রাম হোসেন হুমায়ুন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবীর, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল আলম ভুট্টু ও আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম ।

অন্যদিকে, ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল  মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোয়ন কিনে আলোচনায় আসেন। পরে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনি জাপার মনোনয়ন কিনে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলীয় চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। একই দিন তাকে নাঙ্গল প্রতীক বরাদ্ধ দেন এরশাদ।

এ নিয়ে জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সভাপতি ও দলের চেয়ারম্যানের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক উপদেষ্টা  রিন্টু আনোয়ার রাগে-ক্ষোভ গত বৃহস্পতিবার দলের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। তবে জাপা থেকে পদত্যাগী রিন্টু আনোয়ার এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনি মাঠে থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এই ছাড়া ১/১১ কুশলীব মাসুদ উদ্দিনকে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে নাগরিক কমিটি। দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌর সভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই আসনে কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। এই আন্দোলনে ১/১১ এর সময়ের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার বা পরিবারের সদস্যরা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সচেতন নাগরিকরা যুক্ত হয়েছেন। অপরদিকে, বুধবার দাগনভূঞা উপজেলা সদরের সনটিতে লাঙল নয়, নৌকা চাই এই দাবিতে আওয়ামী লীগের ব্যানারে  মানবন্ধন করেছে এলাকাবাসীর। 

সোনাগাজি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রহুল আমীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘সব প্রার্থীর পক্ষের নেতাকর্মীরা বলছে,‘নৌকা যার, আমরা তার।’

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল বাশার বলেন,‘আমাদের মধ্যে বিভেদ নেই। নেতাকর্মীরা এবার নৌকার প্রার্থী চায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপির কারচুপির কারণে অল্প ভোটের ব্যবধান আমি হেরেছিলাম। গত নির্বাচনে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে মহাজোটকে (লাঙল) এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছি। ফলে দলে আমার ভাবমূর্তি যেমন অক্ষুণ্ন আছে। তেমনি আওয়ামী লীগ কর্মীদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। কারণ আমি দলীয় শৃঙ্ক্ষলা কখনও ভাঙিনি। তা ছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। আমি জানি জননেত্রীও আমার প্রতি আস্থাশীল।’

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টনও একই শুরে কথা বলেছেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে এখন পর্যন্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে আছি। আসনটিতে নেত্রী যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই মনোনয়ণ দিবেন। তিনি নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে চান।

অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তৃণমূলের জনগণের কাছে এসে কাজ করছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী নৌকার প্রার্থী দিয়ে এলাকার সেবা করার সুযোগ করে দিবেন।’ 

এ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীরা ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব কটি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন বর্তমান এমপি হাজী রহিম উল্যাহ।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল  মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে জাপা থেকে নাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী হয়েছি। মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত আছি।’

নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যন ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন,‘অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে এই আসনে আওয়ামী লীগ এখন অনেক শক্তিশালী। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিপুল কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নে প্রচারপত্র বিলি করে ভোটের মাঠ সরগরম রেখেছি।’

অপরদিকে এই আসনে বিএনপির একমাত্র কাণ্ডারি হলেন, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু। 

দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মিস্টার দলের  বলেন,‘আবদুল আউয়াল এই আসনে প্রার্থী না হলে তার ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আকবর হোসেন দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন।  সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে এই আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।’