রাজনৈতিক মেরুকরণে দেশ এখন দুটি ধারায় বিভক্ত: ওবায়দুল কাদের

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট হাইস্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনৈতিক মেরুকরণে দেশ এখন দুইটি ধারায় বিভক্ত। একটি হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও গণতন্ত্রের শুভশক্তি আর অপরটি হচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ৭১'এর পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তি। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রীরা।

রবিবার (১৬ ডিসেম্বর) তার নির্বাচনি এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট হাইস্কুল মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে তারা। এই পরাজিত শক্তিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের মুখোশ খসে পড়েছে। তারা মুখে যতই মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের কথা বলছে আসলে তারা জঙ্গিবাদকে সমর্থন করছে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন,‘আপনাদের আস্থার ঠিকানা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাই বিজয়ের কোনও বিকল্প নেই। ৩০ ডিসেম্বর সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে আমরা আবারও পরাজিত করে বিজয়কে ছিনিয়ে আনবো। নৌকার পক্ষে সারাদেশে গণ-জোয়ার উঠেছে। এই অবিস্মরণীয় গণ-জোয়ার দেখে এবং হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। এ অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করতে হবে। তারা গণতন্ত্রের জন্য মায়া কান্না করেন, অথচ অন্তরে কোনও গণতন্ত্র নেই।’

সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন,‘পদ্মাসেতু, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফোর লেন সড়ক, ঢাকায় উড়াল সেতু, কর্ণফুলীর নদীর নিচ দিয়ে টানেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে। আজ দেশে ৩৪টি প্রাইভেট চ্যানেল চালু আছে। জনগণ সব খবর পায়। ৯ কোটি মানুষের ঘরে ইন্টারনেট, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছে। জন্ম নিবন্ধনে বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নাম সংযোজন করে নারীদের সম্মানিত করা হয়েছে। নারীরা প্রশাসনের বড় বড় পদে আছেন। এ সুযোগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই করে দিয়েছেন।’

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন,‘আদর্শের জন্য দল করুন আর উন্নয়নের জন্য কাজের লোককে ভোট দিন। উত্তরবঙ্গের মঙ্গা, দরিদ্রতা ও বেকারত্ব এখন যাদুঘরে। এবার যদি তারা ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশ অন্ধকারে যাবে। আগুন সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে যাবে। তারা যদি ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে, লাশের মিছিল হবে। তালেবানের যুগ শুরু হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন,‘নির্বাচনের আগেই নোয়াখালীতে একজনকে খুন করেছে। তারা ক্ষমতায় আসলে কী হবে তা ভেবে দেখুন। ক্ষমতায় আসার আগেই জানিয়ে দিচ্ছে ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের এভাবে হত্যা করা হবে। বিজয়ের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে ও মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান দেখাতে শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আনুন। আওয়ামী লীগ প্রতিশোধের রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগ জোরপূর্বক জনগণের ভোট ছিনতাই করে না। নির্বাচন বানচাল করতে এলে জনগণ প্রতিহত করবে। আমাদের কোনও অস্ত্র নেই। ভোটাররা এবং জনগণই আমাদের অস্ত্র।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত প্রমুখ।

পরে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্টসহ অনুদান তুলে দেন। মন্ত্রী পরে কবিরহাট উপজেলা ভবনের সামনে আরেকটি মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করেন।