বাসায় থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতেই এমপি এম এ লতিফের স্ত্রীর ভাই তোফায়েল আহমেদ রফিককে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিভাগীয় পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবেই তোফায়েল আহমেদকে হত্যা করা হয়। বাসায় থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতে নিহতের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়।’
বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন মো. ইকবাল। এ ঘটনার প্রধান আসামি গৃহকর্মী জয়েস চাকমা ওরফে জয়েসকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে গতকাল বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় রাঙামাটির লংগদু থানাধীন ভারতীয় সীমান্ত এলাকার একটি দুর্গম পাহাড় থেকে আসামি জয়েসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জয়েস চাকমা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি থানাধীন হাতিমারা ছাড়া গ্রামের রাংগু চাকমার ছেলে।
পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, ‘আসামি জয়েস চাকমা ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে নিহত রফিকের বাসায় চাকরি নেয়। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিহত রফিকের বাসায় লুটপাট করা। আর এ উদ্দেশ্যে সে রফিককে খুন করে নগদ ১১ হাজার টাকা, ১টি ক্যামেরা ও ১টি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে লুট হওয়া মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাসহ নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে আমাদের জানিয়েছে, একাই সে বৃদ্ধ তোফায়েল আহমেদকে হত্যা করেছে। বাসায় থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালাংকার হাতিয়ে নিতেই সে তোফায়েল আহমেদকে ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাঈন উদ্দিন ও পুলিশ পরিদর্শক এনায়েত।
গত ১৪ ডিসেম্বর নগরীর বারেক বিল্ডিংয়ে নিজ বাসায় খুন হন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের স্ত্রীর বড় ভাই তোফায়েল আহমেদ রফিক। ঘটনার পর বাসার কাজের ছেলে পলাতক জয়েস চাকমাকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে সাহেদ আজগর চৌধুরী। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বুধবার বিকালে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি এলাকা থেকে জয়েস চাকমাকে গ্রেফতার করে।