শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই নেতা দাবি করে বলেন, ‘টেকনাফে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি লুটপাট এবং পুলিশের পোশাকে ডাকাতি করা হচ্ছে। হ্নীলায় এক প্রবাসী যুবক দুবাইয়ে বসে বদির হুমকির বিরুদ্ধে ফেসবুকে মতামত প্রকাশ করায় পুলিশ তার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। টেকনাফ উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাফর আলমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বদির মিথ্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’
শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, ‘টেকনাফ উপজেলার সাবরাংয়ে বিএনপি নেতা সোলতান আহমদ মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে তাকে এক মাসের জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি। এই বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করায় সোলতান মেম্বার ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাশেম মেম্বারসহ ৮ নেতাকে আটক করে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। দুদিন থানায় আটকে রেখে মামলা ছাড়াই তাদের আদালতে পাঠানো হয়। ওসি প্রদীপ কুমার ও এমপি বদি নিজে গিয়ে শামলাপুরের ছাত্রদল নেতা রাসেল এবং জসিমকে ধরে নিয়ে গেছে। এখনও কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। যুবদল নেতা ফয়সালকে আটক করা হলেও তাকে এখনও আদালতে পাঠানো হয়নি। উখিয়া উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোলতান মাহমুদ চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরীর অভিযোগ, ‘প্রথমদিকে এমপি বদি হুমকি দিলেও বর্তমান তিনি ও পুলিশ নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। এতে ভয়ে পুরো টেকনাফ বিএনপি কর্মীশূন্য হয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আমার নির্বাচনি মঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করেছে। কিন্তু এই ঘটনার জের ধরে ১৭ ডিসেম্বরের ঘটনা দেখিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করেছে পুলিশ।’
এ ব্যাপারে এমপি বদি বলেছেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকায় এমন কোনও মানুষ নেই যে আমাকে ভালোবাসে না। আমার দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির নেতারাও আমাকে ভালোবাসেন। নির্বাচনের সময়ে শাহাজাহান চৌধুরী নিজ দলের কোনও নেতাকর্মীকে পাশে না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। এছাড়াও নিশ্চিত পরাজয় জেনে প্রলাপ বকছেন তিনি।’
টেকনাফ থানার অফিসার ওসি প্রদীপ কুমার বলেন, ‘শাহাজাহান চৌধুরীর অভিযোগ সত্য নয়, মিথ্যা ও বানোয়াট। কথা হচ্ছে, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহর ছোট ভাই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান এবং আবদুর রহমান একই বাড়িতে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে ৮-১০টি মামলা রয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা কি পুলিশের অপরাধ? যদি এমন হয়, তাহলে শাহাজাহান চৌধুরী নিজেই ইয়াবার গডফাদার।’