আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র জমা এবং প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার করতে গিয়ে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিক্ষিপ্ত ঘটনাগুলোর পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, নির্বাচনি মাঠের যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা প্রস্তুত রয়েছে।
কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের বিএনপি প্রার্থী কে এম মুজিবুল হক অভিযোগ করে বলেন, ১৯-২০ ডিসেম্বর দুই দিনে মুরাদনগর থানা ও বাঙ্গরা থানায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে। মনে হচ্ছে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করছি না, নির্বাচন করছি মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানার দুই ওসির বিরুদ্ধে। তারা প্রতিদিন নেতাকর্মীদের হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন। ভালো মানুষ ধরে এনে, ঢেকে এনে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে চালান দিচ্ছেন। তিনি দুই ওসিকে প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
মুরাদনগর থানার ওসি মঞ্জুর আলম বলেন, ‘মুরাদনগরের কোথাও বিএনপির নেতাকর্মীরা হয়রানির শিকার হয়েছে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির প্রার্থী চাইলে আমরা তাকে সহযোগিতা করবো।’
কুমিল্লা-৯ লাকসাম মনোহরগঞ্জ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে এক সপ্তাহ অবরোধ করে রেখেছে। প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে দিচ্ছেন না। প্রচারে নামলেই হামলা, মারধর করছেন। পুলিশ সহযোগেতা না করে উল্টো হয়রানি করছেন।’
কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু ফজল মীর বলেন, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচারণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীদের নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন স্থানে কিছু বিক্ষিপ্ত হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। বিক্ষিপ্ত ঘটনাগুলোর পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ করছেন। পুলিশ তদন্ত করছে। এছাড়া বড় ধরনের কোনও অভিযোগ পেলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।