টেকনাফে নির্বাচনি এজেন্ট পাচ্ছে না বিএনপি!

টেকনাফনির্বাচনে আর দুই দিন বাকি থাকলেও ক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহাজান চৌধুরীর পক্ষে এজেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না টেকনাফ উপজেলায়। এ আসনে তার সঙ্গে নির্বাচনে লড়ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিন আক্তার।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, যেভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে, তাতে নির্বাচনের সময় এজেন্ট পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত তারা। ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে কর্মীরা এজেন্ট হতে ভয় পাচ্ছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন। এ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন ছয়জন প্রার্থী। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার (নৌকা), বিএনপির সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির (এরশাদ) আবুল মনজুর (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাইফুদ্দিন খালেদ (হারিকেন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ শোয়াইব (হাতপাখা) ও ইসলামী ঐক্যজোটের রবিউল হোসাইন (মিনার)।
এ আসনে ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ১ জন। এ আসনের ১০০টি ভোটকেন্দ্র ও ৫১২টি বুথ কক্ষ রয়েছে। উখিয়ায় ৫টি ইউনিয়নে ৪৫টি কেন্দ্রে ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩৮ জন। টেকনাফে একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নে ৫৫টি কেন্দ্রে ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৮ জন। তাছাড়া টেকনাফে ২৮০টি বুথ কক্ষ রয়েছে। একজন প্রার্থীর প্রতিটি বুথের জন্য একজন করে এজেন্ট দরকার। কিন্তু বিএনপি বড় দল সত্ত্বেও তার প্রার্থীর জন্য এজেন্ট পাচ্ছে না।
বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের মনোনীত প্রার্থীর জন্য এজেন্ট পাওয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এজেন্ট হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের কাছ থেকে কোনও সাড়া পায়নি। এতগুলো এজেন্ট পাওয়া একটু কষ্ট। কেননা, বিএনপির নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, তাই কীভাবে এজেন্ট হবে? পুলিশের ভয়ে অনেকে পলাতক আছেন। সরকার চাইছে আমরা যেন নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে না পারি, নির্বাচন যেন না করতে পারি।
তবে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এড. হাসান ছিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল, ফলে টেকনাফে নির্বাচনি এজেন্ট না পওয়ার কথা নয়। কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তাছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ধরপাকড় করছে, এটি খুবই দুঃখজনক।’
টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ করা ছাড়া বিএনপি এখন পর্যন্ত একটা ঘটনারও প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। সত্যিকার অর্থে বিএনপির এখন কর্মীই নেই। তার প্রমাণ এজেন্ট না পাওয়া।’
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। যাদের কাছে মাদক ও অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে তাদের আটক করা হচ্ছে, সে কোন দলের সেটি দেখার বিষয় নয়। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনও কাজে পুলিশ যুক্ত নয়, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করছে।’

টেকনাফ উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি। নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’