স্থানীয়রা জানান, মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ইয়াবা বিরোধী অভিযানে যান টেকনাফ মাদকদ্রব্য অধিদফতরের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালামের নেতৃত্বে একটি দল। এসময় তল্লাসির পাশাপাশি ওই বাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুঠ করে নিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তল্লাশির ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ওই বাড়ির গৃহবধূ রহিমা খাতুন (৪৫) জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্বামী মোহাম্মদ আলী বাড়িতে ছিলেন না। তার কন্যা পারভিন আকতার (২১) ও অন্যরা বাড়িতে ছিলেন। এসময় সাদা পোশাকের কিছু লোক এবং কয়েকজন আনসার সদস্য পুলিশ পরিচয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। বাড়ি তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাসির একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা নগদ ৫৩ হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণ নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। বিষয়টি কন্যা পারভিন আকতার দেখতে পেয়ে তাকে অবহিত করে।
রহিমা খাতুন আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা বলে তারা আমার কছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না থাকার কথা জানানোর পর, ওই ব্যক্তিরা বাড়িতে পুনরায় তল্লাশির নামে বাড়ির মালামাল তছনছ করতে থাকে। একপর্যায়ে বাড়ির আলমারি ভেঙে নগদ ৫৩ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি আমরা দ্রুত পুলিশকে জানায়।’
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, রাজারছড়া এলাকায় সাদা পোষাকে পুলিশ পরিচয়ে মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা পুলিশ ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাম ও কিছু আনসার সদস্য এই অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের ক্ষেত্রে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও দফাদারের সঙ্গে নেওয়ার কথা থাকলেও, তারা সঙ্গে নেয়নি। এখন পরিবারটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে টাকা ও স্বর্ণ লুটের কথা জানিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য অধিদফতরের টেকনাফ কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালামের সঙ্গে কথা বললে তিনি অভিযানে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই বাড়িতে মাদকদ্রব্য রয়েছে কিনা তল্লাশি করে তা দেখা হয়েছে। তবে টাকা এবং স্বর্ণ লুটের ঘটনাটি সাজানো।’