রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কুনেন্টু চাকমাকে (২৩) গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাঙামাটি সদরের কুতুকছড়ি এলাকা থেকে অস্ত্র ও চাঁদার টাকাসহ তাকে গ্রেফতার করে। কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার কামাল হারুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কুনেন্টু চাকমা জুরাছড়ি থানার ধামের পাড়ার ধন মোহন চাকমার ছেলে। সে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সহযোগী সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি।
পুলিশ জানায়, আজ (শনিবার) বিকালে কুতুকছড়ি উপর পাড়া এলাকায় ইউপিডিএফের চিফ কালেক্টর রবি চন্দ্র চাকমা ওরফে অর্কিড চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের আহ্বায়ক ধর্মসিংহ চাকমা, কাউখালী উপজেলার সংগঠক সম্রাট চাকমা, সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য রণজিৎ চাকমাসহ আরও কয়েকজন চাঁদার টাকা বন্টন করতে একত্রিত হয়। এসময় অভিযান চালিয়ে কুনেন্টু চাকমাকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। তবে বাকিরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, কুনেন্টু চাকমার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও নগদ ৪ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকাসহ চাঁদার রশিদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআই আনোয়ার কামাল হারুন জানান, গোপনে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি।
এদিকে, যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কুনেন্টু চাকমা জানিয়েছে, বিভিন্ন সময় সে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ রাঙামাটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ, কুনেন্টু চাকমা জানিয়েছে, তার উপস্থিতিতে ইউপিডিএফের (প্রসীত) সশস্ত্র সদস্যরা নানিয়াচর উপজেলার হোল্ডিং পাড়া এলাকার একটি বাড়িতে শক্তিমান চাকমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এসময় জেএসএস (সন্তু) সমর্থিত সশস্ত্র গ্রুপের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ, কুনেন্টু চাকমার স্বীকারোক্তিমতে, পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারীদের জুম্ম জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নামে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে থাকে ইউপিডিএফ (প্রসীত)। এতে কাজ না হলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু করে। এ ছাড়া, দলটির নেতাকর্মীরা পার্বত্য এলাকাকে জুম্ম জনগোষ্ঠীর এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলে নিজেরা ভাগ-বাটোয়ারা করে থাকে।
তবে ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের কর্মী নিরন চাকমা বলেন, ‘সে (কুনেন্টু চাকমা) একজন ছাত্র। তার কাছে অস্ত্র ও টাকা থাকার কথা নয়। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। সংগঠনকে দুর্বল করার জন্য এসব ষড়যন্ত্র চলছে।’