নোয়াখালীর হাতিয়ায় দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিয়ে বন্ধ করায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে মারধরের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার আসামি আবদুল কাদের একই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে।
গত মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলার দুর্গম চর ১নং হরণি ইউনিয়নের পূর্ব রসুলপুর গ্রামের পুলিশের দোকানের কাছে মাদ্রাসা শিক্ষক তারিকুল মাওলা ও মসজিদের ইমাম মিনহাজুল ইসলামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় তারিকুল মাওলা গত ২ ফেব্রুয়ারি আবদুল কাদেরকে প্রধান আসামি করে ছমির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী মহব্বত, এনায়েত হোসেন বেচু, বাবলু, আবুল কালাম, মো. দুলাল ও এমরান হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শিকদার জানান, সোমবার সকাল ১০টায় মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদেরকে উপজেলার হরণি ইউনিয়নের হাতিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাকী আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, হাতিয়ার ১নং হরণি ইউনিয়নের পূর্ব রসুলপুর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাবের আহম্মদের মেয়ে নাজমা আক্তারের (১৩) সঙ্গে স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রির বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওই দিন (২৯ জানুয়ারি) মাদ্রসা শিক্ষক তারিকুল ন্যাশনাল হেল্পলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলমকে জানান। পরে নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মেয়েটির বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ওই দিন বিকেলে মাদ্রাসা শিক্ষক তারিকুল মাওলা স্থানীয় পূর্ব রসুলপুর জামে মসজিদের ইমাম মিনহাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে হাতিয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে পূর্ব রসুল গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল কাদের, আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ আলী মহব্বত, আবদুল জিলানীর ছেলে এনায়েত হোসেন বেচু, সমির উদ্দিন, বাবলু ও কালামসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে, হামলাকারীরা তাদের ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ৩টি মোবাইল ফোন, ১টি টর্চ লাইট, ৫৩০০ টাকা, একটি ভিসা কার্ড, মাদ্রসার শিক্ষকের পরিচিতি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যায়। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক তিনটি স্ট্যাম্প ও দুটি নীল কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে, আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি হাতিয়া থানায় তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করেন।