কুমিল্লার দেবিদ্বারে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে বৌ-ভাতের এর অনুষ্ঠান থেকে নববধূকে তুলে নেওয়ার চেষ্টায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার বরের বাবা মো. ইউনূস বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি ইসমাইল নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। ঘটানার সত্যতা পাওয়ায় নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রলীগ।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার। তিনি জানান, ঘটনার সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক সাত বখাটে এবং তাদের নেতৃত্বদানকারী কুমিল্লার নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল ও তার সহযোগী সাকিবকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আটক সন্ত্রাসীদের শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবার সকালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, সংগঠনের শৃংখলা নষ্ট করায় নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলো, কোতোয়ালি থানার জাগরতলি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আলী হোসেন (২১), বুড়িচং উপজেলার কোরপাই গ্রামের মরণ পালের ছেলে সজিব পাল (১৯), চান্দিনা উপজেলার এদবারপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে বাছির আহমেদ (২২), চান্দিনা উপজেলার মহরম গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে নাহিদুল ইসলাম (২২), বুড়িচং উপজেলার নামতলা গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে মোহাম্মদ জাফর (২০), চান্দিনা উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের আব্দুল আউয়ালে’র ছেলে মেহেদী হাসান (২১), দেবিদ্বার উপজেলার সূরপুর গ্রামের মৃত. বাদশা মিয়ার ছেলে মো.আলম (২২)।
উল্লেখ্য, দেবিদ্বার উপজেলার সূর্যপুর গ্রামের জাকির ফরাজীর মেয়ের সঙ্গে একই উপজেলার সাহারপাড় গ্রামের মো. ইউনুছের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমানের (২৫) বিয়ে হয়। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তাদের বৌ-ভাত এর অনুষ্ঠানে নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইলের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন বখাটের একটি দল হামলা চালায়। বখাটেরা অনুষ্ঠানে আসা লোকজনকে মারধর করে কনেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী তাদের ঘেরাও করে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইল ও সাকিব পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সাত বখাটেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।